এক পরিবারে চার খু,ন হত্যায় অংশ নেয় ভাগনে, দুলাভাইসহ ছয়জন

জমি নিয়ে বিরোধে নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত হাবিবুরের আপন দুই ভাগনে ও দুলাভাইকে (বোনের স্বামী) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তাররা হলেন– নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন হোসেন ও আরেক বোনের ছেলে সবুজ রানা। গ্রেপ্তার তিনজনের বাড়িই উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। হাবিবুরের বাবা তাঁর ছেলেমেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি লিখে দেন।

তাঁর ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা সম্পত্তি ছেলে হাবিবুর রহমানকে লিখে দেন। বাকি সম্পত্তি তাঁর মেয়েদের লিখে দেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সঙ্গে হাবিবুরের ঝামেলা শুরু হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন ও হাবিবুরের আরেক বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা হাবিবকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর তাঁর ভাগনে সবুজ রানাকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া বাজারে গরু কিনতে যান।

হাবিবুর এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েছিলেন। পরে গরু না কিনেই বাড়িতে ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে আসার পর গ্রামের একটি মাঠে গিয়ে সবুজ রানা, শহিদুল, শাহিনসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জন পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাত ৮টার দিকে তারা হাবিবুরের বাড়িতে যান। হাবিবুরের স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খান। ওই সময় সবার অগোচরে হাবিবুরের ভাগনে শাহিন বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে।

সবুজ খাবার খেয়ে বের হয়ে যায়। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দিলে সবুজ, শহিদুলসহ আরও পাঁচজন বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে হাবিবের বাবা নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেয়। এরপর হাবিবের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

হাবিবের স্ত্রী পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে ছিলেন। হাবিবকে হত্যা করার সময় পপি বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হন। বাড়ির আঙিনায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পপির মাথায় হাঁসুয়া দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁকেও গলা কেটে হত্যা করে তারা। পরে হাবিবের পুরো পরিবার নির্বংশ করার উদ্দেশ্যে তাঁর দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে সবুজ রানা, শহিদুল ও শাহিন হাবিবের বাড়িতে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার তদন্তে নেমে ওই দিনই হাবিবের ভাগনে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিন, দুই বোন ডালিমা বেগম, হালিমাসহ ছয়-সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হাবিবের ভাগনে সবুজ রানা পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে গতকাল আরও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সবাইকে হত্যার কারণ হিসেবে শহিদুল ও সবুজ রানা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, নির্বংশ করলে পরবর্তী সময় হাবিবের নামে থাকা সম্পত্তির ভাগিদার তারা হবে। এই ভাবনা থেকেই তারা পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও জয়ব্রত পাল, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, পুলিশের জেলা ডিবির ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

About captionidea

Thanks For Visit Our Website.

Check Also

কক্সবাজার থেকে প্রতিমাসে বস্তা ভরে ইয়াবা আনতেন ওবায়দুল কাদের: অলি আহমদ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রতিমাসে কক্সবাজার থেকে বস্তা ভরে ইয়াবা নিয়ে আসতেন বলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *