ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের এবং মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে একসময় লীগের ব্যবহৃত সেই পুরোনো ও কুৎসিত বয়ান আবারও ফিরে আসছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিকে নতুন করে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সহিংসতার এই ঘটনাকে সমাজের গভীর অবক্ষয়ের চিত্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি লিখেছেন, “সেই একই ভয়ংকর ছায়া যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।” ডাকসু নেতাদের ওপর ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এই সহিংসতাকে তিনি এই অবক্ষয়ের একটি মর্মান্তিক প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একজন শিক্ষক হিসেবে তার এই প্রতিক্রিয়া জনমনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যর্থতা আড়ালে ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকার: সাদেক কায়েম
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরকার ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদেক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন।
সাদেক কায়েম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার যখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই তারা ছাত্রদলের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে রামদা ও চাপাতি নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে এবং ভুয়া স্ক্রিনশট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে তিনি জানান, একটি ফেসবুক স্ক্রিনশটকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়, যা পরে ফ্যাক্ট চেকিং প্লাটফর্মে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তার আবেদন জানাতে গিয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উবায়দুর রহমান হাসিবসহ ডাকসু ও হল সংসদের একাধিক নেতা ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা ও সালমাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও ডাকসু ভিপি তার স্ট্যাটাসে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৬ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিককে ছাত্রদল হেনস্তা করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টিকেই তিনি শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার একটি পূর্বপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিশেষে, সাদেক কায়েম সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ছাত্রদলের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যাকফায়ার করবে এবং বর্তমান প্রজন্ম ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি মেনে নেবে না।
ছাত্রলীগও কখনো এভাবে পেটায়নি: ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের
“ছাত্রলীগও কখনো এভাবে পেটায়নি।” বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে দেখা করার সময় এমন আক্ষেপ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট ছড়ানোকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আইনি পদক্ষেপ নিতে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ শাহবাগ থানায় গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলাডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
হামলার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রক্তাক্ত অবস্থায় এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে আশ্রয় দেওয়া হয়। এদিকে থানা প্রাঙ্গণের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় থানার ভেতরে অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পরপরই তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডাকসু নেতার এমন মন্তব্য ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বর্তমান পরিস্থিতির তীব্রতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনার পর থেকে শাহবাগ থানা এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জুবায়েরের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের শিপন
রাজধানীর শাহবাগ থানায় বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্টের প্রতিবাদে এবং এ বিষয়ে মামলা করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানায় উপস্থিত হন। খবর পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধিও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। থানায় জিডি করা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হয়। দুই পক্ষই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক এবং এ বি জুবায়ের হামলার শিকার হন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন এবং ঢাল হয়ে দাঁড়ান। সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কারণে থানা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
Caption Idea Best Caption