বেফাক এবং আল হাইয়াতুল উলইয়া পরিক্ষার রেজাল্ট২০২৫

বেফাক ও আল-হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার রেজাল্ট কওমি শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রতিফলন। এই পেইজে বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার অফিসিয়াল রেজাল্ট দেখার নির্ভরযোগ্য লিংক দেওয়া হয়েছে, যাতে সবাই সহজে ও দ্রুত ফলাফল জানতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা সবার ইলমে বরকত দান করুন—আমিন।

Table of Contents

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া রেজাল্ট ২০২৫: ফলাফল দেখার সরাসরি লিংক

​২০২৫ সালের কওমি মাদ্রাসা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) এবং আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ (দাওরায়ে হাদীস) এর ফলাফল অনলাইনে দেখার সঠিক পদ্ধতি এবং সরাসরি লিংক নিচে দেওয়া হলো।

​ বেফাক পরীক্ষার রেজাল্ট (Befaq Result)

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (Wifaqul Madarisil Arabia Bangladesh) এর অধীনে অনুষ্ঠিত সকল মারহালার ফলাফল অনলাইনে পাওয়া যাবে।

  • বিস্তারিত: বেফাক পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে। এখানে ছাত্র ও ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ফলাফল এবং মাদ্রাসাওয়ারি (পুরো মাদ্রাসার) মেধা তালিকা উভয়ই পাওয়া যাবে।
  • রেজাল্ট দেখার সরাসরি লিংক: http://wifaqbd.org/result
  • বোর্ডের প্রধান ওয়েবসাইট: http://www.wifaqbd.org
  • বিস্তারিত: কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার রেজাল্ট নিচের অফিসিয়াল লিংকের মাধ্যমে খুব সহজে দেখা যাবে।
  • রেজাল্ট দেখার সরাসরি লিংক: https://al-haiatululya.com/result
  • বোর্ডের প্রধান ওয়েবসাইট: https://al-haiatululya.com
  • ​উপরে দেওয়া সরাসরি লিংকে ক্লিক করুন।
  • ​আপনার কাঙ্ক্ষিত মারহালা/পরীক্ষার স্তর নির্বাচন করুন।
  • ​আপনার রোল নম্বর এবং নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) নম্বর সঠিক ভাবে লিখুন।
  • ‘সাবমিট’ বা ‘ফলাফল দেখুন’ বাটনে ক্লিক করুন।
  • ​সাথে সাথেই আপনার রেজাল্ট শিট বা মার্কশিট স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।

আল্লামা মাহমূদুল হাসান

( সভাপতি এর বাণী )

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের পূর্বে বিশ্বমানবতার অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। মহান স্রষ্টা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষ নিজের হাতে গড়া মূর্তির পূজা করত, মৃত পশু ভক্ষণ করত, অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা তাদের ভূষণে পরিণত হয়েছিল। ছিনতাই-রাহাজানি ও খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি ছিল তাদের নৈমিত্তিক ব্যাপার। এভাবে তারা মনুষ্যত্বের সকল গুণ হারিয়ে পশুত্বের শেষ সীমায় উপনীত হয়েছিল। এই নাজুক পরিস্থিতিতে আল্লাহ পাক এ জগতের জন্য রহমত করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। তিনি এ পৃথিবীতে এসে আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষার মাধ্যমে মাত্র ২৩ বছরে এমন একটি উন্নত নৈতিক গুণসম্পন্ন আদর্শ জাতি গড়ে তোলেন যারা সৃষ্টি করেছেন মানবেতিহাসের সর্বাপেক্ষা সোনালী যুগ।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বর জাতি যে শিক্ষার স্পর্শে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিল সেই কোরআনী শিক্ষাই মানুষ গড়ার মৌলিক শিক্ষা। মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে হেরা গুহায় এ শিক্ষাধারার সূচনা হয় এবং সুদীর্ঘ ২৩ বছর সময়কালে তা পূর্ণতা লাভ করে। বিশ্বনবী অনাগত বিশ্বের সকল মানুষের কাছে এই শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রথমে পবিত্র মক্কার দারে আরকামে, অত:পর মসজিদে নববীতে মাদরাসা চালু করেন। পরবর্তীকালে সাহাবায়ে কেরাম থেকে আরম্ভ করে যুগে যুগে মনীষীবৃন্দ তা লালন করে আমাদের নিকট পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন। এভাবে এ শিক্ষাধারার বর্তমান ধারক হচ্ছে বর্তমান যুগের কওমী মাদরাসা।

যেহেতু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবজাতিকে কোরআনভিত্তিক শিক্ষা দিয়ে সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে তুলেছেন, সেহেতু এ শিক্ষার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজাতির ইহ ও পরকালীন কল্যাণ। যেহেতু মুসলিম জাতির জন্য এ শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, তাই এ শিক্ষাধারা সংরক্ষণ ও লালন করা মুসলিম জাতির অপরিহার্য কর্তব্য।

জ্ঞানী মহলের কাছে অবিদিত নয়, সপ্তম শতাব্দী থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এ শিক্ষাধারা সারা পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বৃটিশ রাজশক্তির দ্বারা বিভিন্ন মুসলিম দেশে এ শিক্ষার উপর চরম আঘাত নেমে আসে। এরই অংশ হিসেবে বৃটিশ সরকার ভারত উপমহাদেশে লাখ লাখ মাদরাসা বন্ধ করে দেয়। তখন মুখলিস ওলামায়ে হক্ব বেসরকারিভাবে এ শিক্ষাধারা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন এবং উত্তর ভারতের দেওবন্দ নামক এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে হাজার বছর ধরে চলে আসা এই শিক্ষাধারা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। সম্পূর্ণ বেসরকারি পর্যায়ে শুধুমাত্র জনগণের সার্বিক সহায়তায় এ ধারা চালু করা হয়েছে বিধায় বর্তমানে তা “কওমী মাদরাসা” বা “জাতীয় মাদরাসা” নামে পরিচিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষাধারা যেহেতু মানবজাতির বিশেষভাবে মুসলিম জাতির ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির মাধ্যম সেহেতু এটাই মুসলিম জাতির জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, আমাদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা, আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা। যার বর্তমান উত্তরসূরি হচ্ছে এ যুগের কওমী মাদরাসা। তাই, আমাদের পূর্ববর্তী মুখলিস আকাবির ও মনীষীবৃন্দ কওমী মাদরাসাসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করে সম্মিলিতভাবে তার চিন্তাধারার সংরক্ষণ, বিকাশ, উন্নয়ন, প্রচার-প্রসার, চর্চা-গবেষণা ও অনুশীলন প্রভৃতি উদ্দেশ্য সামনে রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুকরণ ও অনুসরণে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ পাক তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন। বস্তুত, বেফাক আমাদের নিকট মুরুব্বীয়ানে কেরামের রেখে যাওয়া একটি পবিত্র আমানত।

বাংলাদেশের প্রাচীন ও সুবৃহৎ মাদরাসা আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী চট্টগ্রামসহ দেশের ৮০% কওমী মাদরাসা ইতোমধ্যে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এ যোগদান করেছে। আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান এদারায়ে তালীম বি-বাড়িয়া, হাইআতুল মাদারিসিল আরাবিয়াহ তালীমি বোর্ড মাদানীনগর নারায়ণগঞ্জ, দ্বীনী শিক্ষা বোর্ড হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড চরমোনাই বরিশাল, ইত্তেহাদুল মাদারিসিল ক্বওমিয়া ভোলা, মহিলা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ইলহাকুল মাদারিসিল ক্বওমিয়া বাংলাদেশ যাত্রাবাড়ী ঢাকা, বেফাকে যোগদান করেছে। এপর্যায়ে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ কওমী মাদরাসা আজ বেফাকের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ।

কওমী মাদরাসা ও কওমী ওলামায়ে কেরামকে ধরাপৃষ্ঠ হতে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী শক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে। এ হামলার মোকাবেলা করতে আমাদের সদা সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আর এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর জন্য বেফাককেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এপর্যন্ত বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মারকাযী পরীক্ষার প্রভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়ায় অধিক মনোযোগী হয়েছে। লেখাপড়ার মান উন্নত হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষকগণও শিক্ষাদীক্ষায় আগের তুলনায় অনেক বেশি তৎপর হয়েছেন। তালিম ও তারবিয়াতের মান উন্নত হয়েছে। পরিশেষে আমি আঞ্চলিক এদারা ও ছোট-বড় সকল কওমী মাদরাসা যেগুলো এখনও বেফাকে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলোর মুহতামিম ও পরিচালকবৃন্দের খেদমতে বেফাকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

মাওলানা মাহফুজুল হক

( মহাসচিব এর বাণী )

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লী ‘আলা রাসূলিহিল কারীম। আম্মা বা‘দ। মুসলমানদের অস্তিত্বের, উত্থানের ও উন্নয়নের একমাত্র পথ ও পাথেয় হলো কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান আহরণ ও ধারণ করে তার উপর জীবন পরিচালনা করা।

কোরআন-হাদীসের শিক্ষা ব্যতীত যেমন কোন মুসলমানের অস্তিত্ব থাকে না, তেমনি এই জ্ঞান শিক্ষার মাধ্যম মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা ব্যতীত মুসলিম জাতির অস্তিত্বও থাকে না। তাই যতদিন মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, ততদিন মুসলিম জাতি ছিল সারা বিশ্বের শিক্ষাগুরু। যে দিন মুসলমানগণ এ শিক্ষা ছেড়ে দিয়েছে, সেদিন থেকে তারা মর্যাদার আসন হারিয়েছে। ফলে যে জাতি একদিন সারা দুনিয়ায় নেতৃত্বের আসন অলঙ্কৃত করেছিল, মানবজাতিকে সভ্যতার পথ দেখিয়েছিল আজ সেই মুসলিম জাতি হয়েছে বিজাতির গোলাম এবং বিজাতিরা হয়েছে মুসলমানদের প্রভু। কোরআনের জ্ঞানের ভান্ডার হলো আসল সম্পদ। এ সম্পদ যখন মুসলমানদের হাতে ছিল, তখন ছিল তারা জ্ঞানী ও সম্পদশালী। যখন তারা কোরআন ছেড়েছে, তখন তারা হয়েছে সর্বহারা ।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে মুসলমানদের একমাত্র জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভিত রচনা ও লালন করে গিয়েছেন। তাঁর তিরোধানের পর বহু শতাব্দী যাবত সারা বিশ্বে মুসলমানেরা জ্ঞান-বিজ্ঞান বিতরণ ও উন্নয়ন, মনীষা সৃষ্টি, ধর্মীয় ও বৈষয়িক জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখা-প্রশাখার সৃষ্টি ইত্যাদিতে বহুমুখী অবদান রেখেছে। এ সময় সকল ক্ষেত্রে শত সহস্র মুসলিম মনীষীও সৃষ্টি হয়েছেন। এ কারণে সারা বিশ্ব সকল ক্ষেত্রে মুসলমানদের নিকট ঋণী। মুসলিম মনীষী হিসেবে আজ আমরা যাদের স্মরণ করি, তারা সবাই এ মাদরাসা শিক্ষাধারার ফসল। মাদরাসা শিক্ষার মূল বৈশিষ্ট্য হলো-
১। আসমানী শিক্ষাকে জ্ঞানের মূল স্বীকার করে এ শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা। ২। বৈষয়িক জ্ঞানসমূহের যা কল্যাণকর, তা গ্রহণ করা এবং আসমানী জ্ঞানের আলোকে তাতে সংস্কার করা। ৩। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষা ধারার উপর অনড় থাকা। এ বৈশিষ্ট্যত্রয়ের কারণে মাদরাসা শিক্ষার যুগে মুসলমানরা বহুমুখী অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশে ঐ বৈশিষ্ট্যের ধারক দারুল উলূম দেওবন্দের আদর্শের অনুসরণে মাদরাসাসমূহের সার্বিক উন্নতি কল্পে গঠিত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) এ যুগের কওমী মাদরাসাসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করে ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার এবং ইসলামী শিক্ষার বিপ্লব ঘটিয়ে মুসলমানদের সার্বিক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বেফাকের মাধ্যমে যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে-
(১) মাদরাসাসমূহের নেছাবে তা‘লীম নিয়ন্ত্রণ।
(২) মাদরাসাসমূহের তা‘লীম ও তারবিয়াতের মান উন্নয়ন।
(৩) কেন্দ্রীয় পরীক্ষা গ্রহণ, সনদ ও বৃত্তি প্রদান।
(৪) পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ।
(৫) ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ।
(৬) যোগ্য শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দান।
(৭) মাদরাসা পরিদর্শন।
(৮) মাদরাসার হিসাব নিরীক্ষণ।
(৯) নিরক্ষরতা ও মূর্খতা দূরীকরণ।
(১০) আধুনিক সমস্যাবলির ইসলামী সমাধান পেশ। আর এতদনিমিত্ত মুফতী বোর্ড বাংলাদেশ, পরিচালনা।
(১১) মসজিদ ও মাদরাসার মাধ্যমে নিরক্ষরতা ও মূর্খতা দূরীকরণ এবং ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমরা আল্লাহ পাকের দরবারে এই দোয়া করি, তিনি যেন বেফাককে তার অভীষ্ট লক্ষ্য পানে এগিয়ে যাওয়ার তাওফীক দেন। বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা তার ইতিহাসে ঐতিহ্য ধরে রেখে ইলমে ওহীর আসমানী আলোয় দেশ, জাতি, সমাজ ও সংস্কৃতিকে আলোকিত করার প্রায়াস অব্যাহত রাখুক।

বেফাক শব্দের অর্থ হচ্ছে পারস্পরিক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা। পারিভাষিক অর্থে ঐক্য, ঐক্যজোট প্রভৃতি। এ হিসেবে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর অর্থ দাঁড়ায়, বাংলাদেশের আরবী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কওমী মাদরাসাসমূহের ঐক্যমতের সংস্থা।

বেফাক সম্পর্কে

যেহেতু কোরআনে পাকে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে শক্ত করে আঁকড়ে ধর এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। আরো বলা হয়েছে- মুমিনগণ ভাই ভাই।

অতএব, মুসলিম জাতির মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্ষা করা এবং বিচ্ছিন্ন না হয়ে বরং ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহ পাকের রজ্জুকে আঁকড়ে থাকার এ নির্দেশগুলো ইসলামের বিরাট গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও মহান আদর্শ । বর্তমানে ইলহাদ ও নাস্তিক্যবাদের সয়লাবের মুখে ভ্রাতৃত্বের সুসম্পর্ক ও ঐক্যের অভাবে মুসলিম সমাজ শতধা বিভক্ত এবং বিভ্রান্তির বেড়াজালে নিপতিত। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, ইলমে ওহীর ধারক বাহক আলেম সমাজও আজ বিভক্তির শিকার হয়ে পড়েছেন। বলা বাহুল্য, পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি ও বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কুপ্রভাবে অনৈক্যের প্রবাহে ভেসে চলেছে সবাই। এসব কুপ্রভাবের প্রতিরোধ এবং কোরআনিক বিপ্লবের মহান লক্ষ্যে ১৮৬৬ ঈঃ সনে উত্তর ভারতের দেওবন্দে দারুল উলূম মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং আজো উক্ত প্রতিষ্ঠান তার অবদান অব্যাহত রেখে চলেছে। শুরু হতে দারুল উলুম দেওবন্দ মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণে বহুবিধ বৈপ্লবিক কর্মতৎপরতা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে শিক্ষাকে মৌল কর্মসূচী হিসেবে স্থান দিয়ে উহার প্রচার, প্রসার ও উন্নয়নকল্পে বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে বেফাক অর্থাৎ ঐক্য প্রতিষ্ঠা অন্যতম । দারুল উলূমকে ঐক্যের প্রতীক ও মারকায হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সমগ্র উপমহাদেশে মাদরাসা শিক্ষার জাল বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর এ মাদরাসাগুলোকে দারুল উলূম দেওবন্দের সঙ্গে প্রোথিত করে রাখা হয়েছিল।

দারুল উলূম দেওবন্দের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ৫ম নম্বরে বলা হয়েছে-“মাদারিস কায়েম করনা আওর দারুল উলূম ছে উনকা ইলহাক”। অর্থাৎ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা এবং দারুল উলূমের সঙ্গে এসবের ইলহাক করা। দারুল উলুমের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাসমূহই দরসে নেজামী মাদরাসা, কওমী মাদরাসা, দেওবন্দী ধারার মাদরাসা প্রভৃতি নামে পরিচিত। ১৯৪৭ ঈসাব্দ সনের পর এতদাঞ্চলের মাদরাসাগুলো দারুল উলূম দেওবন্দ কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপর দিকে তাৎক্ষণিকভাবে এতদুদ্দেশ্যে কোন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় এ মাদরাসাগুলোর মধ্যে কোন ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠতে পারেনি। পরিণতিতে মাদরাসাগুলোর মধ্যে বিভেদ এবং তার ফলে আলেম সমাজের মধ্যে বিভেদ ব্যাপক আকার ধারণ করতে শুরু করে। অতঃপর এ বিভেদ জনজীবনেও প্রবেশ করে মুসলিম সমাজকেও শতধা বিভক্ত করে ফেলতে শুরু করে। এ মর্মান্তিক ও দুঃখজনক অবস্থার প্রেক্ষিতে কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় সর্বাগ্রে এ কওমী মাদরাসাগুলোকে কোন একটা কেন্দ্রীয় সংস্থার আওতায় এনে ঐক্যবদ্ধ করা এবং পরস্পরের মধ্যে সংহতি গড়ে তোলা । যাতে আলেম সমাজের মধ্যেও সংহতি গড়ে ওঠে এবং এর সুফল সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । বস্তুতঃ এটা দারুল উলূম দেওবন্দের বৈপ্লবিক চিন্তাধারারই অন্যতম অংশ। অতএব, দারুল উলূমই ছিল মূলতঃ এ আদর্শের আলোকে একটা বেফাক ও ঐক্যসংস্থা অথবা আধুনিক পরিভাষায় একটা বোর্ড ও জাতীয় সংস্থা ।

বাংলাদেশের মাদরাসাগুলোর দুঃখজনক অবস্থার অবসানকল্পে দারুল উলূম দেওবন্দের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশস্থ দারুল উলূমের শাখা-প্রশাখা প্রতিষ্ঠানসমূহকে একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে জাতির বৃহত্তম কল্যাণ কামনায় বাংলাদেশের সর্ব স্তরের মাশাইখ ও উলামায়ে কিরাম একটা কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গড়ে তোলেন । এর নাম রাখা হয়- “বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ” সংক্ষেপে বেফাক। প্রকৃতপক্ষে আসমানী শিক্ষা ও এ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে জাতি গঠন, নিরক্ষরতা ও মূর্খতা দূরীকরণ এবং দরিদ্রতা ও সন্ত্রাসমুক্ত সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গঠন করার কোরআনিক বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ।

আল্লহ পাক বলেন- তোমরা আল্লাহ ও তদীয় রসূলগণের নির্দেশ মেনে চলবে এবং পরস্পরে ঝগড়া-বিবাদ করবে না। কেননা, পরস্পর ঝগড়া বিবাদ করলে তোমাদের ঐক্য বিনষ্ট হবে এবং তোমরা হীনবল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব- প্রতিপত্তি শেষ হয়ে যাবে”। সূরা আনফাল : ৪৬। বিশ্বনবী (স.) ইরশাদ করেছেন- “ইলম অর্জন করা সকল মুসলমানের ওপর ফরয”।

তিনি আরো বলেন- “তোমরা ইলম অর্জন কর ও তা মানুষকে শিক্ষা দাও’’ । “তোমরা কোরআন শিখ ও তা মানুষকে শিক্ষা দাও’’। জ্ঞানের কথা একটি বাক্য হলেও তা আমার পক্ষ হতে অন্যের নিকট পৌঁছে দাও। তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে, যে কোরআনের জ্ঞান অর্জন করে ও তা অন্যকে শিক্ষা দেয়।

কোরআনিক বিপ্লবের এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে যেমন আত্মপ্রকাশ করেছিল দারুল উলুম দেওবন্দ, ঠিক তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আত্ম-প্রকাশ করেছে বাংলাদেশস্থ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।

About captionidea

Thanks For Visit Our Website.

Check Also

প্রিয় মানুষ নিয়ে স্ট্যাটাস, ক্যাপশন উক্তি ৩৯০ টি সেরা পোস্ট

প্রিয় মানুষ মানেই জীবনের সবচেয়ে শান্ত আশ্রয়, যার কাছে গেলে সব ক্লান্তি হারিয়ে যায়। তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *