শিরোনাম: পোস্টাল ব্যালট হাতে পাওয়ার পর প্রবাসীদের করণীয়: ভোট প্রদানের সহজ নির্দেশিকা

একজন প্রবাসী হিসেবে দেশের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক গর্বের বিষয়। আপনি যদি নির্বাচন কমিশন থেকে ডাকযোগে বা পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে ব্যালট পেপার হাতে পেয়ে থাকেন, তবে অভিনন্দন! এখন আপনার কাজ হলো সঠিক নিয়মে ভোটটি কাস্ট করে দেশে পাঠানো।

​অনেকেই ব্যালট হাতে পাওয়ার পর কী করবেন বা কোন খামে কী ভরবেন—তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

ধাপ ১: খামের ভেতর কী কী আছে যাচাই করুন

​নির্বাচন অফিস থেকে আসা প্যাকেটটি খোলার পর নিচের জিনিসগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিন:

১. একটি ব্যালট পেপার (যাতে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক আছে)।

২. একটি ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম (ফরম-১৩)।

৩. একটি ছোট খাম (ব্যালট পেপার রাখার জন্য)।

৪. একটি বড় খাম (রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানাসহ, যা দিয়ে আপনি ভোট ফেরত পাঠাবেন)।

​ধাপ ২: ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান

  • ​ব্যালট পেপারটি হাতে নিন।
  • ​আপনার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর নির্ধারিত ঘরে কলম দিয়ে টিক চিহ্ন (√) বা ক্রস চিহ্ন (×) দিন। (নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী যা প্রযোজ্য, সাধারণত স্পষ্ট চিহ্ন দিলেই হয়)।
  • ​সতর্কতা: প্রতীকের ঘরের বাইরে বা একাধিক প্রার্থীর ঘরে দাগ দেবেন না, এতে ভোট বাতিল হয়ে যাবে।

​ধাপ ৩: ঘোষণাপত্র (Declaration Form) পূরণ

  • ​প্যাকেটের সাথে থাকা ঘোষণাপত্রটি (ফরম-১৩) সতর্কতার সাথে পূরণ করুন।
  • ​এখানে আপনার নাম, স্বাক্ষর এবং তারিখ স্পষ্ট করে লিখুন।
  • ​কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন সাক্ষীর (যিনি আপনাকে চেনেন বা প্রবাসী বাংলাদেশি) স্বাক্ষরের প্রয়োজন হতে পারে। ফরমের নির্দেশনা দেখে সেটি নিশ্চিত করুন।

​ধাপ ৪: খাম বন্দীকরণের সঠিক নিয়ম (খুব গুরুত্বপূর্ণ)

​ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই ধাপটি খুব সাবধানে করতে হবে:

১. ছোট খাম: ভোট দেওয়া ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করে ছোট খামটির ভেতর ঢুকিয়ে খামটির মুখ আঠা দিয়ে ভালো করে বন্ধ করে দিন। (এই ছোট খামের ওপর আপনার নাম বা কোনো চিহ্ন দেবেন না)।

২. বড় খাম: এবার বড় খামটি নিন। এই বড় খামের ভেতর দুটি জিনিস ঢোকাতে হবে:

* বন্ধ করা ছোট খামটি (যার ভেতরে ব্যালট আছে)।

* পূরণ করা ঘোষণাপত্রটি।

৩. এবার বড় খামটির মুখ আঠা দিয়ে ভালো করে বন্ধ করুন।

​ধাপ ৫: ডাকযোগে প্রেরণ

  • ​বড় খামটি প্রস্তুত হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত আপনার নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যান।
  • ​খামটি ‘রেজিস্টার্ড ডাক’ বা নির্ভরযোগ্য মেইল সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন। (বড় খামের ওপর সাধারণত রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা প্রিন্ট করা থাকে)।

​বিশেষ সতর্কতা

  • ​সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন: আপনার পাঠানো খামটি অবশ্যই বাংলাদেশে নির্বাচনের দিন ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্নিং অফিসারের হাতে পৌঁছাতে হবে। তাই ব্যালট হাতে পাওয়ার পর একদিনও দেরি করবেন না।
  • ​স্বাক্ষর: ঘোষণাপত্রে আপনার স্বাক্ষর দিতে ভুলবেন না, স্বাক্ষর না থাকলে ভোটটি গণনা করা হবে না।

​প্রবাসে থেকেও দেশের গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Scroll to Top