বিষন্নতা এমন এক নীরব বৃষ্টি, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু ভেতরের আকাশ ভিজিয়ে দেয় প্রতিদিন। মানুষের ভিড়ের মাঝেও যখন হৃদয় একা হয়ে যায়, তখন জন্ম নেয় এই গভীর শূন্যতা। হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘশ্বাস, রাতের নীরবতায় জমে থাকা অশ্রু আর না বলা হাজারো কথা মিলেই বিষন্নতার গল্প তৈরি করে। তবুও মানুষ বাঁচে, চলে, দায়িত্ব পালন করে, শুধু ভেতরের যুদ্ধটা কেউ দেখে না। এই অনুভূতিগুলোই কারও কাছে কষ্টের, আবার কারও কাছে নিজের অস্তিত্ব বোঝার এক নীরব ভাষা। আপনার পছন্দের স্ট্যাটাস, ক্যাপশন উক্তি এখান থেকে কপি করে শেয়ার করতে পারবেন।
বিষন্নতা নিয়ে স্ট্যাটাস
বিষন্নতার নীল খামে চিঠি পাঠাই রোজ কিন্তু তুমি তো রাখো না আমার কোনো খোঁজ
হাসির আড়ালে কান্না লুকাই আমি বড়ই একা তোমায় ছাড়া এই ভুবনে সবই যেন ফ্যাকা
সবাই আমায় ছেড়ে গেছে সুখের সন্ধানে একমাত্র বিষন্নতাই পাশে আছে আপন জানে
রাতের আঁধারে আমি এক রাত জাগা পাখি বুকের ভেতর কষ্টগুলো দিচ্ছে শুধুই ফাঁকি
সুখের ঠিকানায় চিঠি দিয়েছি ফেরত এসেছে খাম আমার কপালে বিষন্নতাই একমাত্র নাম
ভালো থাকার অভিনয়টা শিখে গেছি বেশ ভেতরটা পুড়ে ছাই তবুও বলি সব ফ্রেস
চলাফেরা করি আমি যেন এক জীবন্ত লাশ বুকের ভেতর দাফন করা হাজারো দীর্ঘশ্বাস
আমার আকাশের রং এখন শুধুই কালো মেঘ রোদের দেখা নেই আছে শুধু বিষন্নতার বেগ
শরীরের অসুখে ওষুধ মিলে মনের অসুখে নাই বিষন্নতার আগুনে আমি তিলে তিলে ছাই
যাদের জন্য জীবন দিলাম তারাই হলো পর বিষন্নতাই আপন হলো ভাঙল আমার ঘর
চোখের জলের দাম নেই এই স্বার্থপর শহরে তাই তো আমি কান্না লুকাই বিষন্নতার বহরে
ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেছি কেউ তো খোঁজে না বিষন্নতা ছাড়া কেউ আমার মন বোঝে না
মন ভেঙেছে শব্দ হয়নি কষ্ট পেয়েছে প্রাণ বিষন্নতার সুরে গাইছি আমি শেষের গান
পুরনো সব স্মৃতি এসে দরজায় মারে টোকা বিষন্নতায় ডুবে আছি খেয়ে শুধু ধোঁকা
চলতে চলতে ক্লান্ত আমি পথের দেখা নাই বিষন্নতাই সঙ্গী আমার আর কিছু না চাই
চাপা কষ্টের উক্তি
বুকের ভেতর পাথর চাপা নিঃশ্বাস নিতে মানা কষ্টের কথা বলতে গেলে সবাই হয় অচেনা
সব কষ্টের শব্দ হয় না কিছু কষ্ট থাকে মনে কাউকে বলা বারণ শুধু পুড়ে মরি ক্ষণে ক্ষণে
হাজার কথা জমে আছে বলার মানুষ নাই চাপা কষ্ট বুকে নিয়েই আমি যেন ছাই
আমি এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি লাভা জমেছে বুকে চাপা কষ্টের দহন জ্বালা সইবো আমি সুখে
হাসিমুখের আড়ালেতে কষ্টের নদী বয় কেউ দেখে না ভাঙা হৃদয় কতটা যে সয়
কান্নাগুলো গলা টিপে হত্যা করি রোজ চাপা কষ্টের খবর কেউ রাখে না নিখোঁজ
মাটির নিচে নয় গো ভাই বুকের ভেতর কবর হাজার স্বপ্ন দাফন দিয়েছি নেই কারো খবর
দিনের আলোয় হাসি আমি রাতে বালিশ ভেজে চাপা কষ্টের সাক্ষী শুধু আমার বালিশ নিজে
কোথায় ব্যথা কেউ বোঝে না ওষুধ দেব কিসে চাপা কষ্ট বিষের মতো রক্তে গেছে মিশে
কেমন আছিস প্রশ্ন শুনে বলি ভালো আছি চাপা কষ্টের পাহাড় ডিঙিয়ে মিথ্যে নিয়েই বাঁচি
চিতায় তো মরা পোড়ে জ্যান্ত পোড়ে মনে চাপা কষ্টের আগুন জ্বলে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে
শরীর কাটলে রক্ত ঝরে মন কাটলে জল চাপা কষ্টের বন্যায় আমি করছি টলমল
কারো ওপর অভিযোগ নেই কপাল আমার ফাটা চাপা কষ্ট সয়েই আমি শিখছি একা হাঁটা
জীবন এখন রঙ্গমঞ্চ আমি সেরা অভিনেতা চাপা কষ্ট লুকিয়ে হাসি এটাই আমার জেতা
বাতাস এখন ভারী লাগে বিষাক্ত নিঃশ্বাস চাপা কষ্টে আটকে আছে বাঁচার শেষ আশ
মন খারাপের ক্যাপশন
আকাশ আজ মেঘলা খুব আমার মনের মতো মন খারাপের দিনে আমি হারিয়েছি যে পথ
কারণ ছাড়াই মন খারাপ হয় ওষুধ কোথায় পাই উদাস দুপুরে একা আমি শূন্যতায় হারাই
বাইরে বৃষ্টি ঝরে আর ভেতরে ঝরে জল মন খারাপের দিনে আমি হারিয়েছি বল
এক কাপ চা আর একরাশ শূন্যতা সঙ্গী মন খারাপের দিনে আমি বড়ই বেরঙি
ইচ্ছে করে হারিয়ে যাই অনেক দূরে কোথাও যেখানে নেই মন খারাপের বিষাক্ত কোনো হাও
ডানে বামে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই তো পাশে মন খারাপের দিনে সবাই আমায় দেখে হাসে
মনটা আজ বড্ড অবুঝ কিছুতেই মানে না পুরনো সব স্মৃতি এসে দিচ্ছে শুধু হানা
মন খারাপের দিনে আমার সঙ্গী দীর্ঘশ্বাস সুখ পাখিটা উড়ে গেছে করে সর্বনাশ
আলোর দেখা চাই না আমি অন্ধকারই বেশ মন খারাপের রাজত্বে আমিই অবশেষ
পুরনো সেই গানের সুরে মনটা আরও ভাঙে মন খারাপের দিনে ব্যথা জাগে নতুন রঙে
মাথায় সব এলোমেলো চিন্তা করে ভীড় মন খারাপের দিনে আমি হারিয়েছি তীর
মন খারাপের দিনে দেখি পৃথিবী স্বার্থপর কেউ কারো নয় সবাই শুধু চেনে নিজের ঘর
জানালার পাশে বসে দেখি ধূসর আকাশ মন খারাপের দিনে আমি হতাশ হতাশ
মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে চোখ বলে কথা মন খারাপের দিনে বাড়ে শুধুই ব্যথা
ভালো না লাগার অসুখ হয়েছে ওষুধ কাজ করে না মন খারাপের দিনে কেউ তো খোঁজ করে না
একাকীত্বের যন্ত্রণা
একা এসেছি একা যাবো মাঝখানে সব ফাঁকি একাকীত্বের খাঁচায় আমি ছটফট করে থাকি
হাজার মানুষের ভিড়ে আমি বড্ড একা সুখের দেখা পাই না শুধু দুঃখের সাথে দেখা
নিজের ছায়াও অন্ধকারে আমায় ছেড়ে যায় একাকীত্বের এই জ্বালা বলো আর কত সয়
ডানে বামে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই তো পাশে একাকীত্ব আমাকে দেখে নিঠুর হয়ে হাসে
নিঃসঙ্গ এই জীবনে আমি একাই নাবিক কূল কিনারা পাই না খুঁজে সব দিকেই ধিক
পথের শেষ নেই কিন্তু সাথে হাঁটার লোক নাই একাকীত্বের মরুভূমিতে আমি শুধুই হারাই
শূন্য ঘরে আমি আর আমার একাকীত্ব মিলে সংসার করি সুখের দেখা নেই দুঃখগুলোই তড়ি
মেকি সম্পর্কের ভীড়ে আমি হাঁপিয়ে গেছি ভাই তাই তো আমি একাকীত্বের মাঝে শান্তি পাই
বুকের ভেতর জমে আছে হাজার কথা বলার মানুষ নাই দেয়ালে মাথা ঠুকে আমি শুধুই যে মরি ছাই
একাকীত্বের বিষন্ন বিকেল কাটে না যে আর সুখ পাখিটা উড়ে গেছে অনেক সুদূর পার
একাকীত্বের মাঝে আমি নিজেকে খুঁজি রোজ আমি যে নিখোঁজ তার কেউ রাখে না খোঁজ
আমি এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বিষন্নতা যার সাগর ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে আমার স্বপ্নমাখা ঘর
কেউ না আসুক একলা চলো নীতিতেই আমি সেরা স্বার্থপরদের ভিড়ে আমি চাই না কারো হীরা
দিনের আলোয় মিশে থাকি রাতের আঁধারে একা বালিশ জানে আমার চোখের জলের গোপন রেখা
কাউকে আর বিশ্বাস করি না সবাই ধোঁকাবাজ একাকীত্বই ভালো বন্ধু দেয় না কোনো লাজ
হতাশা ও ব্যর্থতা
আমি জীবন যুদ্ধের এক হেরে যাওয়া সৈনিক নেই কোনো অস্ত্র হতাশা আমাকে ঘিরেছে হয়ে বড় ব্যাঘ্র
স্বপ্নগুলো মরে গেছে হতাশার চাপে বাঁচার ইচ্ছে নেই আর এই ধরাধামে
সুড়ঙ্গের শেষে কোনো আলোর রেখা নাই হতাশার অন্ধকারে আমি হাবুডুবু খাই
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমি আজ নিঃস্ব হতাশা ছাড়া আমার আর নেই কোনো বিশ্ব
মিথ্যে আশায় বুক বেঁধেছিলাম আজ সব চুরমার হতাশা ছাড়া জীবনে আর নেই কোনো সার
মনটা বড্ড ক্লান্ত আর স্বপ্ন দেখে না হতাশার চাদরে মুড়ি দিয়ে আর কিছু শেখে না
জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলো আজ হতাশা হয়ে ফিরে শান্তি আমার কেড়ে নিয়েছে সব গেছে যে ছিঁড়ে
চলার পথ হারিয়ে ফেলেছি গোলকধাঁধায় আমি হতাশা আমাকে টানছে নিচে আমি শুধু দমি
নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে হয়েছি আমি পঙ্গু হতাশা আমাকে বানিয়েছে এক বাতিল হওয়া সঙ্গু
বিপদে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি সবাই সরে গেছে হতাশাই শুধু হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নিয়েছে
জীবনের আকাশে কালো মেঘ জমেছে ভারি হতাশার বৃষ্টিতে ভিজছে আমার স্বপ্নের বাড়ি
হতাশা এত গভীরে গেছে যে বাঁচার ইচ্ছে নাই মরে গেলেই মুক্তি পাবো আর কিছু না চাই
সব হারিয়ে আজ আমি পথের ভিখারি হতাশা ছাড়া ঝুলি আমার একদম ভারি
জীবনটা মনে হয় শুধুই সময়ের অপচয় হতাশায় দিন কাটে আর বাড়ে সংশয়
কারো কাছে অভিযোগ নেই সব আমার দোষ হতাশা আমাকে খাচ্ছে নেই কোনো হুশ
নির্ঘুম রাতের কষ্ট
রাত জাগা পাখি আমি ঘুম আসে না চোখে স্বপ্নগুলো মরে গেছে এই না পাওয়ার শোকে
বালিশ জানে আমার রাতের গোপন ইতিহাস চোখের জলে ভিজে যায় আমার প্রতিটি শ্বাস
নিস্তব্ধ রাতে আমি আর আমার দীর্ঘশ্বাস ঘুম পরীটা রাগ করেছে করে সর্বনাশ
রাত বাড়লে স্মৃতিরা সব মগজে দেয় হানা ঘুমাতে চাইলেও তারা কিছুতেই যে মানে না
চোখের নিচে কালি পড়েছে নির্ঘুম রাতের দানে কেউ বোঝে না আমার কষ্ট কেউ তো নাহি জানে
ভোরের অপেক্ষায় থাকি রাত কাটে না আর নির্ঘুম চোখের জ্বালায় আমি হয়েছি যে ছার
স্বপ্নেও এখন আতঙ্ক দেখি ঘুম আসে না ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে আমার শুধুই সংশয়ে
রাতগুলো বড্ড একা সঙ্গী কেউ নাই নির্ঘুম চোখে আকাশ দেখি তারারাও বলে যাই
রাতের আঁধারে পুরনো ক্ষত তাজা হয়ে ওঠে নির্ঘুম চোখের পাতায় শুধু ব্যথার ফুল ফোটে
ঘুমের বড়িও কাজ করে না চিন্তা মাথায় ঘোরে নির্ঘুম রাতে আমি যেন বন্দি কোনো ঘোরে
চাঁদের সাথে আড়ি আমার সেও দেয় না দেখা নির্ঘুম রাতে আমি বড্ড একা একা
আমার চোখে ঘুম নিষিদ্ধ জেগে থাকাই সাজা নির্ঘুম রাতে আমি এক নামহীন রাজা
রাতের বেলা কষ্টের পাহাড় বুকে এসে চাপে নিঃশ্বাস নিতে পারি না আমি শরীর শুধু কাঁপে
দিনের বেলা হাসি আমি রাতে কাঁদি একা নির্ঘুম চোখের কষ্ট কেউ পায় না তো দেখা
বিছানাটা মনে হয় কাঁটার আঘাত শুধু দেয় নির্ঘুম রাতে ছটফট করি নেই কোনো উপায়
গভীর রাতের বিষন্নতা
গভীর রাতে মনটা আমার নিশাচর হয়ে জাগে বিষন্নতার কালো ছায়া চারপাশ থেকে লাগে
রাত ৩টার চিন্তাগুলো মাথায় করে ভীড় গভীর রাতের বিষন্নতায় আমি হারিয়েছি তীর
চারদিকে অন্ধকার রাজত্ব আমি একাই প্রজা গভীর রাতের বিষন্নতা দিচ্ছে আমায় সাজা
শহর যখন নিঝুম ঘুমে আমি তখন জাগি গভীর রাতের বিষন্নতায় পালানোর পথ মাগি
গভীর রাতে স্মৃতির মিছিল বের হয় রাজপথে বিষন্নতায় পিষ্ট আমি নেই কোনো রথে
গভীর রাতে কান্নার শব্দ কেউ শোনে না ভাই বালিশ চেপে কান্না করি শান্তি একটু চাই
গভীর রাতে এক কাপ কফি আর বিষন্নতা সঙ্গী ঘুমহীন চোখে আমি যেন এক জ্যান্ত রোগী
গভীর রাতে অচেনা ভয় আঁকড়ে ধরে বুকে বিষন্নতার সাগরে আমি মরছি ধুঁকে ধুঁকে
আকাশে তারার মেলা কিন্তু মনে অন্ধকার গভীর রাতের বিষন্নতায় বন্ধ সব দ্বার
গভীর রাতে হারানো সুর বাজে মনে প্রাণে বিষন্নতা আমাকে টানে মরণ কুয়োর পানে
গভীর রাতে লিখতে বসি জীবনের শেষ চিঠি বিষন্নতার কালিতে লিখি বেদনার ইতি
গভীর রাতে চাঁদও থাকে কালো মেঘে ঢাকা আমার জীবনের মতোই সব ঝাপসা আর ফাঁকা
গভীর রাতে ইচ্ছে করে মরে যাই একেবারে বিষন্নতার হাত থেকে বাঁচি চিরতরে
পাশের বালিশ শূন্য পড়ে কেউ নেই তো সেখানে গভীর রাতের বিষন্নতা আমাকেই শুধু হানে
গভীর রাতে মনে হয় তলিয়ে যাচ্ছি নিচে বিষন্নতার অতল গহ্বর আমাকে শুধু খিচে
জীবনের অপ্রাপ্তি
চাওয়া পাওয়ার হিসাব কষে পেলাম শুধু শূন্য এই জীবনে আমি হলাম সবার কাছে জঘন্য
জীবনের ঝুলি হাতড়ে দেখি কিছুই নাই আর অপ্রাপ্তির পাহাড় জমেছে ভেঙেছে সব দ্বার
যা চেয়েছি তা পাইনি যা পেয়েছি তা চাইনি অপ্রাপ্তির বেদনায় আমি পথ খুঁজে আর পাইনি
আমার জীবনের গল্পটা সব অসমাপ্তই রল অপ্রাপ্তির কালিতে লেখা এই চোখের জল
স্বপ্নগুলো দেখেছিলাম সব ভেঙে চুরমার অপ্রাপ্তির আঘাতে আমি হয়েছি যে ছার
অদৃষ্টের লিখনে ছিল শুধুই অপ্রাপ্তি সুখের দেখা পেলাম না আমি শুধুই বিভ্রান্তি
আমি এক হেরে যাওয়া বাজিকর সব দানেই হার অপ্রাপ্তির বোঝা টেনে আমি হচ্ছি পার
সুখ পাখিটা ডানা মেলে উড়ে গেল দূরে অপ্রাপ্তির সুর বাজছে আমার করুণ সুরে
দুহাত পেতে দাঁড়িয়েছিলাম বিধাতার দরবারে অপ্রাপ্তি ছাড়া কিছু জুটল না এই বারে
জীবনের পাতায় পাতায় শুধুই আফসোস অপ্রাপ্তির আগুনে পুড়ে আমি আজ বেহুঁশ
একটু ভালোবাসার জন্য আমি কাঙাল হয়েছি অপ্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি
সব কিছুই ভুল সময়ে ভুল মানুষের কাছে অপ্রাপ্তির জ্বালা ছাড়া আর কি বা আমার আছে
বাইর থেকে সফল দেখি ভেতরটা তো ফাঁকা অপ্রাপ্তির কালো রঙে সব স্বপ্ন ঢাকা
আমি এক নিভে যাওয়া তারা জ্বলার আগেই শেষ অপ্রাপ্তির আঁধারে আমি হারানো অবশেষ
কোনো আশাই পূরণ হয়নি সব নিরাশা ভাই অপ্রাপ্তির সাগরে আমি হাবুডুবু খাই
মিথ্যে হাসির আড়াল
মিথ্যে হাসির আড়ালে আমি কান্না জমাই রোজ কেউ বোঝে না আমার ব্যথার গোপন কোনো খোঁজ
আমি এখন সেরা অভিনেতা হাসি দিয়ে দুঃখ ঢাকি ভেতরটা পুড়ে ছাই তবুও বলি ভালো থাকি
বৃষ্টির জলে চোখের জল মিশিয়ে ফেলি আমি মিথ্যে হাসির নাটক করে দিন কাটাই দামী
হাসিটা আমার ধার করা কান্নাটা আমার নিজের মিথ্যে সুখের অভিনয়ে আমি রোজই যে মরি জের
মুখের ওপর হাসির মুখোশ কলিজায় রক্তক্ষরণ মিথ্যে হাসির আড়ালে আমার হচ্ছে রোজই মরণ
সুখ নেই কপালে তাই সুখের অভিনয় করি মিথ্যে হাসি হেসে আমি জ্যান্ত হয়েও মরি
কেউ বোঝে না হাসির পেছনে কতটা ব্যথা জমা মিথ্যে হাসির পাপের জন্য চাইছি শুধু ক্ষমা
রঙিন এই দুনিয়ায় আমি সাদা কালো ছবি মিথ্যে হাসি দিয়ে আমি সাজি সুখের কবি
কান্নার শব্দ হয় না ভাই হাসির শব্দ হয় মিথ্যে হাসির আড়ালে সব সত্য চাপা রয়
বুকের ভেতর দহন জ্বালা মুখে মিষ্টি হাসি মিথ্যে সুখের অভিনয়ে আমি বড়ই ভালোবাসি
আমি যেন সার্কাসের জোকার মানুষকে হাসাই নিজে মিথ্যে হাসির আড়ালে আমার কান্না থাকে ভিজে
কেমন আছো জানতে চেও না ভালো থাকার ভান করি মিথ্যে হাসি সম্বল করে ধুঁকে ধুঁকে মরি
অশ্রুগুলো অদৃশ্য হয় হাসির জাদুবলে মিথ্যে হাসির নৌকা ভাসাই দুঃখের অথৈ জলে
হাসতে হাসতে ক্লান্ত আমি আর পারি না ভাই মিথ্যে হাসির বোঝা টেনে আমি যেন যাই
সুখটা আমার নকল ভাই দুঃখটাই আসল মিথ্যে হাসির আড়ালে সব কষ্টের ফসল
মানসিক যন্ত্রণা
মাথার ভেতর চলছে যুদ্ধ রক্তক্ষরণ নাই মানসিক যন্ত্রণায় আমি তিলে তিলে ছাই
শরীরে কোনো আঘাত নেই মনে অনেক ঘা মানসিক যন্ত্রণায় আমি আর চলে না পা
মস্তিষ্কে আগুন জ্বলছে নেভানোর জল নাই মানসিক যন্ত্রণায় আমি দিশেহারা ভাই
সবাই বলে পাগল আমি কারণ বোঝে না মানসিক যন্ত্রণার ভার কেউ তো খোঁজে না
ঘুমের ওষুধ কাজ করে না চিন্তা মাথায় ঘোরে মানসিক যন্ত্রণায় আমি আটকা পড়েছি ভোরে
চিৎকার করে কাঁদতে পারি না গলা টিপে ধরি মানসিক যন্ত্রণায় আমি রোজ একটু করে মরি
চিন্তাগুলো এলোমেলো ছিঁড়ে খাচ্ছে মগজ মানসিক যন্ত্রণায় আমি হারাচ্ছি সব সহজ
শান্তি খুঁজতে গিয়ে আমি অশান্তিকেই পেলাম মানসিক যন্ত্রণার দামে নিজেকে বেচলাম
শরীরের ব্যথা বলা যায় মনের ব্যথা নয় মানসিক যন্ত্রণায় আমি করছি শুধু ভয়
বিষাক্ত সব চিন্তা এসে মাথায় বাসা বাঁধে মানসিক যন্ত্রণায় আমার প্রাণ পাখিটা কাঁদে
বেঁচে আছি নরকে ভাই মৃত্যু অনেক দূর মানসিক যন্ত্রণায় বাজছে বিদায়ের সুর
পুরনো সব স্মৃতি এসে মাথায় মারে হাতুড়ি মানসিক যন্ত্রণায় আমি হতে চাই যে সুরি
ভালো নেই শরীর আমার ভালো নেই যে মন মানসিক যন্ত্রণায় কাটে আমার প্রতি ক্ষণ
সুস্থ আছি ভান ধরি ভেতরটা তো শেষ মানসিক যন্ত্রণায় আমি হারানো অবশেষ
ঘরের কোণে একা বসে দেয়ালের সাথে কথা মানসিক যন্ত্রণায় আমার বাড়ছে শুধু ব্যথা
বেঁচে থাকার ক্লান্তি
চলতে চলতে ক্লান্ত আমি আর চলে না পা বেঁচে থাকার ক্লান্তি নিয়ে যাচ্ছি শুধু ঘা
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বাতাস বড্ড ভারী বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি হেরে গেছি আড়ি
জীবনের এই স্কুল থেকে ছুটি আমি চাই বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি হাঁপিয়ে গেছি ভাই
আর কতকাল বইবো বোঝা আর কতকাল রব বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি নিঃস্ব হলাম সব
মরে যাওয়ার স্বাদ কেমন জানতে ইচ্ছে করে বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে প্রাণ শুধুই যে মরে
চলাফেরা করি বটে আমি জীবন্ত লাশ বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে বন্ধ আমার শ্বাস
ইচ্ছে নেই বাঁচার তবুও বেঁচে আছি জোর বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি দেখছি না তো ভোর
জীবনটাকে এখন আমার বোঝা মনে হয় বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে কাটছে সময় ভয়
একটুখানি বিশ্রাম চাই মাটির নিচে শুয়ে বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি গেছি যে নুয়ে
জোর করে আর বাঁচা যায় না মন যে মরে গেছে বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে সব স্বপ্ন ঝরে গেছে
শরীর নয় আত্মা আমার ক্লান্ত হয়েছে ঢের বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি হচ্ছি যে জের
পথের শেষে এসেছি আমি আর তো রাস্তা নাই বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি থমকে দাঁড়াই
হাসতে আমি ভুলে গেছি কাঁদতে নেই মানা বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে ভেঙেছে দুই ডানা
বেঁচে থাকাটা মনে হয় শুধুই সময়ের অপচয় ক্লান্ত এই জীবন আমার আর কিছু না সয়
শেষের ডাক শুনতে পাই আমি অপেক্ষাতে আছি বেঁচে থাকার ক্লান্তিতে আমি মিথ্যে কেন বাঁচি
অবহেলার বিষ
অবহেলার বিষে আমি নীল হয়েছি ভাই তোমার দেওয়া কষ্টে আমি ধুঁকে ধুঁকে যাই
মেসেজ সিন করে রাখো রিপ্লাই দেওয়ার টাইম নাই অবহেলার এই যন্ত্রণায় আমি পুড়ে ছাই
আমি তোমার অপশন ছিলাম তুমি ছিলে প্রাওরিটি অবহেলার আঘাতে আজ সব ভেঙেছে রীতি
আমার আবেগ সস্তা তোমার কাছে জানি অবহেলার দহনে আমি চোখের জলে মানি
প্রয়োজনে খোঁজ নাও কাজ ফুরালে পর অবহেলার ঝড়ে আজ ভেঙেছে আমার ঘর
তোমার কাছে আমার কোনো গুরুত্বই তো নাই অবহেলার পাত্র হয়ে আমি শুধু হারাই
সবার জন্য সময় আছে আমার বেলায় নাই অবহেলার এই খেলা আমি দেখতে শুধু পাই
হঠাৎ করে বদলে গেলে অচেনা ব্যবহার অবহেলার আঘাতে আমি হলাম ছারখার
আমি যেন পুরনো খেলনা মন ভরেছে তাই অবহেলার ধুলোয় আমি পড়ে শুধু রই
যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছ অনেক দিন অবহেলার ঋণে আমি হয়ে আছি লীন
ভালোবাসার মূল্য তুমি দিতে পারো নাই অবহেলার বিনিময়ে আমি শুধু কষ্ট পাই
সরে গেছি তোমার পথ থেকে চাই না আর জ্বালাতে অবহেলার আগুন তুমি পারবে কি নেভাতে
ব্যস্ততার অজুহাত দেখাও দূরে থাকার তরে অবহেলার আঘাতে আমার কলিজাটা মরে
ভুলে যাওয়ার ভান করো জানি মনে রাখো না অবহেলার এই কষ্টে আমি আর তো থাকি না
অবহেলা দিয়ে শিখিয়ে দিলে একা থাকতে হয় তোমার দেওয়া এই শিক্ষা মনে রবে নিশ্চয়
ডিপ্রেশন স্ট্যাটাস
ডিপ্রেশন আমার চোখে পরিয়েছে কালো চশমা রঙিন দুনিয়া লাগে এখন ফ্যাকাসে উপমা
ডিপ্রেশন আমাকে খায় পোকার মতো কুড়ে আলো নেভানো ঘরে আমি মরছি শুধু পুড়ে
ওষুধের পাতায় জীবন চলে ঘুম আসে না রাতে ডিপ্রেশন হাত ধরেছে আমার সাথে সাথে
ভালো নেই শুনতে শুনতে সবাই বিরক্ত ডিপ্রেশন শুষে নিচ্ছে আমার গায়ের রক্ত
রোদের দেখা নাইরে ভাই জীবনটা মেঘলা ডিপ্রেশন আমাকে করেছে আজ একলা
ঘরের এক কোণে বসে ভাবি সারাক্ষণ ডিপ্রেশন কেড়ে নিয়েছে আমার সুখের মন
এটা রোগ নাকি ঢং কেউ বোঝে না ভাই ডিপ্রেশনের যন্ত্রণায় আমি কোথায় পালাই
নিজের ওপর বিশ্বাস নাই হারিয়ে ফেলেছি সব ডিপ্রেশন আমাকে করেছে জীবন্ত শব
অকারণে কান্না পায় বুকটা ফেটে যায় ডিপ্রেশন সাগরে আমি হারিয়েছি উপায়
হাসতে আমি ভুলে গেছি মুখটা ভারি থাকে ডিপ্রেশন কালো ছায়া আমার ছবি আঁকে
সবার থেকে বিচ্ছিন্ন আমি নিজের জগতেই বন্দি ডিপ্রেশন করছে আমার সাথে মরণের ফন্দি
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বাতাস লাগে ভারী ডিপ্রেশন দিচ্ছে আমার গলায় রোজই দড়ি
দিনের আলো অসহ্য লাগে অন্ধকারই প্রিয় ডিপ্রেশন বলে আমাকে তুই সব দিয়ে দিও
ডিপ্রেশন হলো মনের ক্যান্সার তিলে তিলে মারে কেউ দেখে না কেমন করে জীবনটা যে হারে
কবে শেষ হবে এই যুদ্ধ জানি না তো আমি ডিপ্রেশন কেড়ে নিচ্ছে সময়গুলো দামী
শূন্যতা ও হাহাকার
বুকটা আমার শূন্য কলস শব্দ করে বেশি ভেতরটা তো ফাঁকা শুধু বাইরে হাসাহাসি
সব আছে তবু কিছু নেই সবই যেন ফাঁকা শূন্যতার মাঝে আমার জীবন ছবি আঁকা
পকেট শূন্য হলে বোঝা যায় দুনিয়া কত কঠিন শূন্যতার মাঝে আমি গুনছি শেষের দিন
বুকের ভেতর খাঁ খাঁ করে নেই তো কোনো পাখি শূন্যতা আমাকে দিচ্ছে শুধুই যে ফাঁকি
হারিয়ে গেছে অনেক কিছু পাওয়ার ছিল যা শূন্যতার হাহাকারে পুড়ছে আমার গা
ডানে বামে তাকিয়ে দেখি শুধুই শূন্যতা আপন বলতে কেউ নেই সব তো নগণ্যতা
নিস্তব্ধ প্রহর কাটে শূন্যতার সাথে কেউ তো আর হাত রাখে না আমার এই হাতে
আকাশের দিকে তাকালে দেখি বিশাল শূন্যতা আমার জীবনের মতোই নেই কোনো পূর্ণতা
সব হারিয়ে নিঃস্ব আমি রিক্ত আমার হাত শূন্যতা গ্রাস করেছে আমার দিনরাত
গল্পটা আমার অসম্পূর্ণ শূন্যতায় ভরা সুখের দেখা পেলাম না আমি কপাল পোড়া
ঘরের কোণে একা আমি শূন্য ঘরে বাস একাকীত্বের সাথে আমার বারো মাস
মনের ঘরটা খালি পড়ে আছে ভাড়াটে নেই শূন্যতার ধুলো জমেছে আমি শুধু চেই
চারদিকে শুধুই হাহাকার আর শূন্যতার ধ্বনি আমি এক রিক্ত নিঃস্ব পথের এক শনি
জীবনের খাতা খুলে দেখি প্রাপ্তি যোগ শূন্য শূন্যতার সাগরে আমি হয়েছি যে জঘন্য
জীবনের শেষ পাতাতেও শূন্যতার ছাপ সুখ পাখিটা উড়ে গেছে দিয়ে অভিশাপ
বিশ্বাস ও ধোঁকা
বিশ্বাস করে ঠকেছি ভাই মানুষ চেনা বড় দায় যাকে ভাবি আপন সেই করে অভিনয়
ধোঁকা খাওয়াটা বোকামি না এটা একটা শিক্ষা বিশ্বাস আর কাঁচ ভাঙলে জোড়া লাগে না রক্ষা
যার জন্য মরলাম আমি সেই দিল না দাম বিশ্বাসের কবরে আজ শুধুই বদনাম
আপন মানুষ ধোঁকা দিলে বাঁচার উপায় নাই বিষের চেয়েও বিষাক্ত সেই ধোঁকার বড়াই
মুখের কথায় বিশ্বাস করে ঠকেছি বারবার এখন আমি বিশ্বাস শব্দটাকেই করি পরিহার
ধোঁকাবাজরা ভালো থাকে সৎ মানুষরা কাঁদে এই দুনিয়ার বিচিত্র সব নিয়ম আর ফাঁদে
একবার যে ধোঁকা দেয় তাকে আর বিশ্বাস নয় ভাঙা আয়নায় মুখ দেখলে শুধু কষ্ট হয়
বিশ্বাস ছিল পাহাড় সমান আজ তা ধূলিসাৎ ধোঁকার আঘাতে ভেঙেছে আমার সাজানো প্রভাত
মানুষ বদলায় না শুধু মুখোশ খুলে যায় বিশ্বাসের ঘরে আজ উইপোকা বাসা পায়
ধোঁকা তো তারাই দেয় যাদের আমরা বিশ্বাস করি অচেনা কেউ তো আর জানে না কোথায় আমি মরি
বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে করলে সর্বনাশ এখন তুমি ভালো আছো করে আমাকে লাশ
ধোঁকা খেয়ে শিখেছি আমি একা থাকতে হয় কাউকে বিশ্বাস করলে শুধু ঠকতে নিশ্চয়
বিশ্বাসের দামে কেনা ছিল আমার ভালোবাসা ধোঁকা দিয়ে বুঝিয়ে দিলে সব মিথ্যে আশা
যে বিশ্বাস ভাঙে সে খুনির চেয়েও খারাপ মন ভেঙে দিয়ে সে বাড়ায় শুধু পাপ
বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই ভাই এখন শুধু সন্দেহের চশমা চোখে পাই
ক্লান্ত জীবন
জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আমি আজ পরাজিত ক্লান্ত দেহ ক্লান্ত মন সবই এখন ভীত
আর কতকাল বইবো বোঝা আর কতকাল রব ক্লান্ত জীবনে আমি হারিয়েছি সব
বেঁচে থাকার অভিনয় আর ভালো লাগে না ভাই ক্লান্ত জীবনে আমি শুধু মুক্তি খুঁজে যাই
নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় বাতাস বড্ড ভারী ক্লান্ত জীবনে আমি হেরে গেছি আড়ি
জীবনটা মনে হয় শুধুই সময়ের অপচয় ক্লান্ত এই শরীরে আর কিছু না সয়
ছুটির ঘণ্টা বাজুক এবার আমি বাড়ি যাবো ক্লান্ত জীবনের সব হিসেব চুকাবো
শরীর চলে না মন চলে না থমকে গেছে চাকা ক্লান্ত জীবনে আমি বড়ই একা একা
সব থেকেও কিছু নেই সবই যেন ফাঁকা ক্লান্ত জীবনের পাতায় শুধু শূন্যতা আঁকা
মরে গেলেই বাঁচি আমি এই যন্ত্রণা থেকে ক্লান্ত জীবন মুক্তি পাবে সব দেনা থেকে
সুখের দেখা পেলাম না আমি দুঃখের সাথে বাস ক্লান্ত জীবনে আজ দীর্ঘশ্বাস বারোমাস
কারো ওপর রাগ নেই নিজের ওপর ঘৃণা ক্লান্ত জীবনে আমি মৃত্যুর কাছে ঋণা
দিন কাটে না রাত কাটে না সময় থমকে আছে ক্লান্ত জীবন আমাকে মৃত্যুর দিকে যাচে
ভালো থাকার ভান করতে করতে আমি আজ শেষ ক্লান্ত জীবনে আমি হারানো অবশেষ
পথের শেষে এসেছি আমি আর তো রাস্তা নাই ক্লান্ত জীবনে আমি থমকে দাঁড়াই
বিধাতা গো তুলে নাও আর পারি না সইতে ক্লান্ত জীবনে আমি চাই না আর রইতে
নীরব কান্না
শব্দ করে কাঁদলে সবাই নাটক মনে করে তাই তো আমি নীরব কান্নায় ভাসি অন্ধকারে
হাসির আড়ালে যে কত কান্না জমা আছে কেউ যদি দেখতো তবে চমকে যেত পাছে
নীরব কান্না গলার কাছে দলা পাকিয়ে থাকে চিৎকার করতে পারি না আমি লোকে পাগল ডাকে
বালিশ জানে আমার চোখের জলের ইতিহাস নীরব কান্নায় ভারী হয় আমার প্রতিটি শ্বাস
সবাই দেখে হাসিমুখ কেউ দেখে না বুক নীরব কান্নায় পুড়ছে আমার সাজানো সব সুখ
চোখের জলও শুকিয়ে গেছে এখন রক্ত ঝরে নীরব কান্না তিলে তিলে আমাকে শেষ করে
বাইরে আমি খুব স্বাভাবিক ভেতরে তুফান নীরব কান্নায় ভেঙে যাচ্ছে আমার অভিমান
কেউ বোঝে না আমার ব্যথা কেউ রাখে না খোঁজ নীরব কান্নায় আমি যে রোজ হচ্ছি নিখোঁজ
জল পড়ে না চোখ দিয়ে মন দিয়ে জল পড়ে নীরব কান্না সবচেয়ে বেশি আঘাত করে জোরে
কাউকে বলা বারণ আমার কষ্টের কথা ভাই নীরব কান্নায় আমি যেন জ্যান্ত পুড়ে যাই
দিনের আলোয় হাসি আমি রাতে ভাসাই চোখ নীরব কান্নায় গোপন থাকে হাজারো এক শোক
বুক ফেটে যায় কিন্তু মুখ ফোটে না আর নীরব কান্নায় আমি আজ হয়েছি ছারখার
কান্নার কোনো ভাষা নেই শুধু অনুভূতি আছে নীরব কান্নায় ডুবে আছি মরণের কাছে
আমি এখন সেরা অভিনেতা কান্না লুকিয়ে হাসি নীরব কান্নাই জানে আমি কতটা ভালোবাসি
বৃষ্টি হলে মিশিয়ে ফেলি চোখের নোনা জল নীরব কান্নায় আমি আজ হারিয়েছি বল
বিষন্ন বিকেল
বিকেল মানেই মন খারাপের হলদে রঙের চিঠি বিষন্নতা এসে টানে স্মৃতির মিহি ইতি
সূর্য ডোবার সাথে সাথে আমার মনও ডোবে বিষন্ন বিকেল আমাকে একলা করে ক্ষোভে
জানালার পাশে বসে দেখি ধূসর আকাশ বিষন্ন বিকেলে বাড়ে আমার দীর্ঘশ্বাস
পাখির দলও ফিরছে ঘরে আমার ঘর তো নাই বিষন্ন বিকেলে আমি একলা বসে রই
চায়ের কাপে ধোঁয়া ওড়ে মনে স্মৃতির ঝড় বিষন্ন বিকেলে আমি বড়ই যে পর
সন্ধ্যাতারা জ্বলে ওঠে আমার বাতি নেভে বিষন্ন বিকেল কাটে শুধু তোমায় ভেবে ভেবে
আলোর মেলা নিভে আসে আঁধার নামে বুকে বিষন্ন বিকেলে আমি মরছি ধুঁকে ধুঁকে
কেউ আসবে না জানি আমি তবুও পথ চেয়ে বিষন্ন বিকেল কাটে আমার একলা গান গেয়ে
দিনের আলো ফুরিয়ে যায় আমার আশা শেষ বিষন্ন বিকেলে আমি হারানো অবশেষ
কোলাহল সব থামছে এবার নীরবতা আসে বিষন্ন বিকেল আমাকে দেখে নিঠুর হয়ে হাসে
ছাদের কোণে একা আমি বাতাস কথা কয় বিষন্ন বিকেলে আমার বড়ই মনে ভয়
হারিয়ে যাওয়া দিনের কথা মনে পড়ে খুব বিষন্ন বিকেলে আমি দিচ্ছি শুধু ডুব
আকাশের রঙ লাল হয়েছে আমার মন কালো বিষন্ন বিকেলে আর লাগে না তো ভালো
ঘরে ফেরার তাড়া সবার আমার তাড়া নাই বিষন্ন বিকেলে আমি একলা পথে যাই
মেঘের ভেলায় ভেসে যায় আমার সব সুখ বিষন্ন বিকেলে আমি লুকিয়ে রাখি মুখ
কাউকে না পাওয়ার কষ্ট
যাকে চেয়েছি দুহাত পেতে সে হলো না আমার না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি হচ্ছি ছারখার
কাছে এসেও দূরে গেলে ছুঁতে পারলাম না না পাওয়ার কষ্টে আমি আর তো বাঁচি না
ভালোবাসা ছিল কিন্তু ভাগ্য ছিল না না পাওয়ার যন্ত্রণায় মন আর মানে না
তোমায় পাওয়ার স্বপ্নগুলো সব ভেঙেছে আজ না পাওয়ার কষ্টের মাঝে নেই কোনো লাজ
সব পেয়েও তোমাকে না পাওয়ার হাহাকার আমার পৃথিবীটা জুড়ে শুধুই অন্ধকার
তুমি ছিলে চোখের সামনে কিন্তু মনের দূরে না পাওয়ার সুর বাজছে আমার করুণ সুরে
বিধাতা সব দিলেন কিন্তু তোমায় দিলেন না না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি আর সইবো না
হাত বাড়ালেই তোমায় ছোঁব এমন ছিল কথা না পাওয়ার আঘাতে আজ বাড়ছে শুধু ব্যথা
যাকে ভেবে দিন কাটে সে অন্য কারো ঘরে না পাওয়ার কষ্টে আমার কলিজাটা মরে
তুমি আমার হতে পারতে কিন্তু হলে না না পাওয়ার আগুনে আমি জ্বলছি সারাক্ষণ আ
এক জনমে তোমায় পাবো না মেনে নেওয়া দায় না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি ভাসছি চোখের জলে হায়
আমার গল্পে তুমি নেই আছ অন্যের খাতায় না পাওয়ার কষ্টে আমি মরছি ব্যথায়
ভালোবাসা পূর্ণ হতো যদি তোমায় পেতাম না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি সব হারালাম
বুকের ভেতর তুমি আছ কিন্তু পাশে নাই না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি কোথায় পালাই
মরে গেলে হয়তো আমি তোমায় পাবো ভাই না পাওয়ার যন্ত্রণায় ইহকালে শান্তি নাই
কলিজা পোড়া দহন
বুকের ভেতর পোড়া গন্ধ পাও কি বন্ধু তুমি আমার কলিজা পুড়ছে রোজ জানো না তো তুমি
আগুন ছাড়া কলিজা পোড়ে ধোঁয়া বের হয় না ভেতরটা যে ছাই হলো কেউ তো দেখে না
তোমার দেওয়া কষ্টের অ্যাসিড কলিজায় লাগে রোজ তিলে তিলে পুড়ছি আমি রাখোনি তো খোঁজ
চিতার আগুন নিভে যায় কিন্তু বুকের আগুন না কলিজা পোড়া গন্ধ নিয়েও আমি করি মানা
প্রতিটা নিঃশ্বাস এখন আগুনের মতো লাগে কলিজা পোড়া যন্ত্রণায় ঘুম আসে না জাগে
পুড়ে পুড়ে কলিজাটা কয়লা হয়ে গেছে এখন আর কষ্ট দিলে ব্যথা লাগে না পাছে
বাইরে আমি শীতল বড় ভেতরে দাবানল কলিজা পোড়া কষ্টে আজ শুকিয়েছে চোখের জল
আমি এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি লাভা জমেছে বুকে কলিজা পোড়া কষ্ট নিয়ে হাসছি আমি সুখে
চোখের জলে আগুন নেভে না আরও দ্বিগুণ জ্বলে কলিজা পোড়া কষ্টে আমি ভাসছি নোনা জলে
আমার বলতে আর কিছু নেই শুধু পোড়া ছাই কলিজাটা পুড়িয়ে দিয়ে শান্তি খুঁজে যাই
কষ্টের রং লাল টকটকে রক্তে ভেজা মন কলিজা পোড়া যন্ত্রণায় কাটছে অগণন ক্ষণ
বুকের ভেতর আর তো কিছু নেই শুধু মাংসপিণ্ড পুড়ে গেছে সব অনুভূতি হয়েছে লণ্ডভণ্ড
অবহেলার বরফ দিয়েও আগুন নেভানো দায় কলিজা পোড়া কষ্টে আমি কোথায় খুঁজে পাই
মায়ার আগুনে পুড়িয়ে মারলে দিলে না তো জল কলিজা পোড়া কষ্টে আজ হারালাম সব বল
আশাগুলো সব ভস্মীভূত নিরাশার আগুনে কলিজা পোড়া গন্ধ ভাসে আমার প্রতিটি গানে
Caption Idea Best Caption