|

স্বৈরাচার নিয়ে ক্যাপশন স্ট্যাটাস উক্তি ২০২৬

স্বৈরাচার মানে এমন এক অন্ধকার শাসন, যেখানে মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায় আর সত্য কথা বলাই অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। ভয়, দমন আর জোরের রাজনীতিতে চাপা পড়ে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন আর অধিকার। তখন নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ, আর সাহসী কিছু মানুষ লড়াই চালিয়ে যায় আলোর আশায়। ইতিহাস বলে, যত শক্তই স্বৈরাচার হোক, মানুষের ঐক্য আর সত্যের শক্তির কাছে একদিন না একদিন হার মানতেই হয়। এই লেখা ও ক্যাপশনগুলো সেই প্রতিবাদের ভাষা, যা মানুষকে সচেতন হতে অনুপ্রেরণা দেয়। আপনার পছন্দের স্ট্যাটাস, কূাপশন উক্তি এখান থেকে কপি করে শেয়ার করতে পারবেন।

Table of Contents

আয়নাঘর ট্যুরিজম ও বর্তমান প্যাকেজ রেট

​আয়নাঘর হলো দেশের একমাত্র ফাইভ স্টার হোটেল যেখানে গেস্টরা চেক-আউট করতে ভুলে যায়।

​এখানকার স্পেশাল সার্ভিস হলো চোখ বেঁধে ফ্রি রাইড যা অনেকটা সারপ্রাইজ পার্টির মতো।

​গুগলে রিভিউ দিতে পারবেন না কারণ এখান থেকে কেউ রিভিউ দেওয়ার জন্য বেঁচে ফেরে না।

​আয়নাঘর ট্যুরিজমের স্লোগান হওয়া উচিত: আসুন, হারান এবং চিরতরে হারিয়ে যান।

​এই রিসোর্টে রুম সার্ভিসের বদলে আছে থাপ্পড় সার্ভিস যা একদম আনলিমিটেড।

​এখানকার ট্যুরিস্টদের প্রধান কাজ হলো দেওয়ালে নখ দিয়ে নিজের বায়োগ্রাফি লেখা।

​আয়নাঘরের ডাইনিং মেনুতে ভাতের বদলে শুধু ‘সরষের তেল’ আর ‘ডান্ডা’ পরিবেশন করা হয়।

​প্যাকেজ রেট খুব সস্তা—শুধু একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলেই আপনি ভিআইপি এন্ট্রি পাবেন।

​এখানে থাকার সুবিধা হলো বাইরের দুনিয়ার কোনো টেনশন আপনাকে আর ছোঁবে না।

​আয়নাঘর হলো সেই জায়গা যেখানে মানুষ আয়না ছাড়াই নিজের আসল চেহারা দেখতে পায়।

​এখানকার ট্যুরিস্ট গাইডরা ইউনিফর্ম পরে থাকে এবং কথা বলার চেয়ে মারতে বেশি পছন্দ করে।

​যদি আপনি নিরিবিলি পছন্দ করেন তবে আয়নাঘরের আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর আপনার জন্যই সেরা।

​এখানে ওয়াইফাই নেই তবে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে গোয়েন্দারা আপনার সব তথ্য জেনে নেবে।

​আয়নাঘরের বেডগুলো একটু শক্ত তবে ডিসিপ্লিন শেখার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই।

​এই ট্যুর শেষে আপনি যখন ফিরবেন তখন আপনি হয়তো নিজের নামটাও ভুলে যাবেন।

​স্বৈরাচারী নেতার ‘মমতাময়ী’ হওয়ার ৫টি ব্যর্থ অভিনয়

​নেতার চোখের পানি আসলে ডিজিটাল গ্লিসারিনের এক চমৎকার জয়জয়কার।

​জননী সাজতে গিয়ে তিনি ভুলেই যান যে তার হাতে জনগণের পকেট কাটার কাঁচি লুকানো।

​টিভিতে তার কান্না দেখে পেঁয়াজের দামও লজ্জায় তিন গুণ বেড়ে যায়।

​নেতার মমতা অনেকটা সেই কুমিরের মতো যে শিকার খাওয়ার আগে একটু কান্নাকাটি করে।

​গরিবের মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি আসলে চেক করেন পকেটে আর কিছু বাকি আছে কি না।

​মায়াকান্না করতে করতে তিনি মাঝে মাঝে ভুলেই যান কোনটা স্ক্রিপ্ট আর কোনটা সত্যি।

​তার দরদী ভাষণ শুনে মানুষ এখন ডায়াবেটিসের ভয়ে কান বন্ধ করে রাখে।

​মমতাময়ী সাজা এই নেত্রীর প্রিয় খেলা হলো গণতন্ত্রকে আইসিইউ-তে রেখে রূপকথা শোনানো।

​শিশুদের আদর করার সময় তার হাসিটা অনেকটা হরর মুভির ভিলেনের মতো দেখায়।

​নেতার স্নেহাশীষ মানেই হলো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হওয়ার সংকেত।

​তিনি এতই মমতাময়ী যে বিরোধী দলকে জেলের ভেতরে খুব যত্নে ‘জামাই আদরে’ রাখেন।

​নেতার ভালোবাসা হলো সেই বিষাক্ত আপেলের মতো যা দেখতে সুন্দর কিন্তু খেলেই শেষ।

​মঞ্চে উঠে যখন তিনি কাঁদেন তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘উন্নয়নের জোয়ার’ মিউজিক বাজে।

​তার মমতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক বিশাল আয়নাঘর আর একদল হেলমেট বাহিনী।

​জননী সেজে তিনি আসলে জনগণের বাকস্বাধীনতাকে পরম মমতায় শ্বাসরোধ করেন।

​হেলমেট বাহিনী ও লগি-বৈঠার অলিম্পিক গেমস

​হেলমেট বাহিনীর প্রধান কাজ হলো মানুষের মাথাকে ফুটবল মনে করে গোল দেওয়ার চেষ্টা করা।

​লগি-বৈঠা নিয়ে রাস্তায় নামা এই খেলোয়াড়রা আসলে অলিম্পিকের ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ চ্যাম্পিয়ন।

​হেলমেট পরে তারা শুধু মুখ লুকায় না আসলে তাদের লজ্জাটাকেও সেফটি দেয়।

​এদের লগি-বৈঠার আঘাতে গণতন্ত্রের পিঠ এখন ম্যাপের মতো নীল হয়ে আছে।

​এই অলিম্পিকের মূল স্পন্সর হলো স্বৈরাচারী সরকার এবং পুরস্কার হলো ক্যাডার পদ।

​হেলমেট বাহিনী হলো সেই বিশেষ ফোর্স যারা রোদে পুড়েও মানুষের হাড় ভাঙতে কার্পণ্য করে না।

​লগি-বৈঠার মিছিলে থাকা এই সোনার ছেলেরা আসলে বড় বড় ‘লাঠিয়াল’ আর্কিটেক্ট।

​এরা এতই ডিসিপ্লিনড যে ডান্ডা মারার সময় টাইমিং একদম পারফেক্ট রাখে।

​হেলমেট বাহিনীর কাছে আইডি কার্ড মানেই হলো পকেটে থাকা একটা বড় সাইজের হাতুড়ি।

​এই অলিম্পিকে যারা দৌড়ায় তারা মূলত জনগণের শান্তি কেড়ে নিতেই ওস্তাদ।

​লগি-বৈঠা হলো তাদের স্টাইল স্টেটমেন্ট যা দিয়ে তারা উন্নয়নের ছবি আঁকে।

​হেলমেট বাহিনীর ট্রেনিং সেন্টার হলো পাতি নেতার ড্রয়িং রুম আর টর্চার সেল।

​এরা যখন রাস্তায় নামে তখন পুলিশও সাইড দিয়ে হেঁটে গিয়ে সালাম ঠোকে।

​এই অলিম্পিকের কোনো রিলে রেস নেই এখানে সবাই ডাইরেক্ট মারপিটে বিশ্বাসী।

​হেলমেট বাহিনীর হেলমেটগুলো আসলে তাদের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সিসিটিভি ক্যামেরা।

​ভোট ছাড়া জেতার ১০০% কার্যকরী নিঞ্জা টেকনিক

​ভোটারদের কষ্ট কমাতে নিঞ্জা নেতারা আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে হালকা করে রাখেন।

​ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নেই কিন্তু ইভিএম বলছে ভোট পড়েছে ১২০%—এটাই নিঞ্জা ম্যাজিক।

​নিঞ্জা টেকনিকের প্রধান মন্ত্র: জনগণ ভোট দিবে মনে মনে আর আমরা দেব ব্যালট পেপারে।

​মরা মানুষ যখন কবর থেকে উঠে এসে সিল মারে বুঝবেন নিঞ্জা বাহিনী মাঠে নেমেছে।

​এই নিঞ্জারা এতই ফাস্ট যে ব্যালট পেপার দেখার আগেই রেজাল্ট ঘোষণা করে দেয়।

​ভোট দেওয়া এখন ওল্ড স্কুল ফ্যাশন নিঞ্জা স্টাইলে এখন ডাইরেক্ট সিলেকশন চলে।

​নিঞ্জা টেকনিক মানে হলো—আপনার ভোট হয়ে গেছে এখন বাড়ি গিয়ে মুড়ি খান।

​ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আসলে এই নিঞ্জা সার্কাসের প্রধান জাদুকর।

​নিঞ্জা নেতারাই পারেন শূন্য ভোটার উপস্থিতিতে ‘ভূমিধস বিজয়’ ছিনিয়ে আনতে।

​ব্যালট বাক্সগুলো যখন কথা বলতে পারে না তখনই নিঞ্জারা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।

​এই টেকনিক শিখতে হলে আপনাকে গণতন্ত্রের প্রতি মায়া একদম বিসর্জন দিতে হবে।

​নিঞ্জা স্টাইলে ভোট মানে হলো ভোটাররা বাসায় ঘুমাবে আর ব্যালট পেপার নাচে মেতে উঠবে।

​নিঞ্জা ডিক্টেটরদের কাছে ইভিএম মানে হলো ‘এভরি ভোট ইজ মাইন’ মেশিন।

​গণতন্ত্রের এই নিঞ্জা ভার্সনে বিরোধী দলের এজেন্টদের জন্য আছে ফ্রি ‘হাসপাতাল প্যাকেজ’।

​ভোট ছাড়া জেতাটা এখন আর চুরি নয় এটা এখন নিঞ্জা নেতাদের ডিজিটাল শিল্পকর্ম।

​দেশের সব উন্নয়ন কি শুধু ম্যুরাল আর পোস্টারেই থাকে?

​রাস্তাঘাটে গর্ত থাকলেও নেতার ম্যুরালে গালগুলো একদম মসৃণ আর চকচকে থাকে।

​পোস্টারের উন্নয়ন এতই ভারি যে তার চাপে সাধারণ মানুষের মেরুদণ্ড বেঁকে গেছে।

​মোড়ে মোড়ে নেতার হাসিমুখের ম্যুরাল দেখে বাজারের ব্যাগটা আরও বেশি হালকা মনে হয়।

​উন্নয়নের জোয়ারে রাস্তা ভেসে গেলেও পোস্টারের আঠা কিন্তু ঠিকই টিকে থাকে।

​ম্যুরাল বানানোর বাজেট দিয়ে পুরো এলাকার চাল কেনা সম্ভব কিন্তু নেতা পাথরই পছন্দ করেন।

​পোস্টারে লেখা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অথচ লোডশেডিংয়ে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জায়গা নেই।

​নেতার পোস্টার যত বড় হয় এলাকার ড্রেনেজ সিস্টেম তত ছোট হয়ে যায়।

​উন্নয়ন মানে কি শুধু ফ্লাইওভারের ম্যুরাল নাকি সাধারণের সুখে থাকা?

​রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেলেও নেতার পোস্টারের রঙ একদম চড়া।

​উন্নয়ন মানেই হলো—হাজারে হাজারে ম্যুরাল আর লাখে লাখে ভুখা নাঙ্গা মানুষ।

​দেওয়ালে দেওয়ালে নেতার বন্দনা অথচ সাধারণের পেটে উন্নয়নের কোনো চিহ্ন নেই।

​পোস্টারগুলো এমনভাবে লাগানো হয় যেন কোনো গর্তে পড়ে গিয়ে আপনি নেতার ছবিই দেখেন।

​ম্যুরাল সংস্কৃতি হলো সেই আয়না যেখানে স্বৈরাচার নিজের কাল্পনিক উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ হয়।

​পাথরের ম্যুরাল কথা বলতে পারলে হয়তো জানতে চাইত—দেশটা কি কারো বাপের সম্পত্তি?

​উন্নয়নের গ্রাফ এখন শুধু পোস্টারের দৈর্ঘ্য আর প্রস্থের ওপর নির্ভর করে।

​স্বৈরাচারের প্রিয় খাদ্য: জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও বিরোধী দলের কান্না

​সকালে জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে নাস্তা করা এদের পুরনো অভ্যাস।

​দুপুরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কান্না না শুনলে এদের হজম ঠিকমতো হয় না।

​জনগণের ঘাম আর রক্ত এদের কাছে দামী পানীয়ের মতো মনে হয়।

​ট্যাক্সের টাকা দিয়ে বিদেশে বেগমপাড়া বানানোই এদের প্রধান ডায়েট প্ল্যান।

​গরীবের পকেট কাটা টাকা দিয়ে এদের রাজকীয় ভোজ চলে প্রতিদিন।

​বিরোধী দলের মিছিলে পুলিশি অ্যাকশন এদের কাছে বিকেলের স্ন্যাকসের মতো।

​সাধারণ মানুষের হাহাকার শুনলে এদের ঘুমটা বেশ ভালো হয়।

​উন্নয়নের নামে টাকা মেরে বিদেশে সেকেন্ড হোম বানানোই এদের আসল ডেজার্ট।

​তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট ফাঁকা করা এদের নিয়মিত রুটিন।

​স্বৈরাচারী ডায়েট চার্টে গণতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই শুধু আছে টাকা আর টাকা।

​বাজারের সিন্ডিকেট থেকে আসা কমিশন এদের কাছে অমৃতের মতো লাগে।

​মানুষের না খেয়ে থাকার কষ্ট এদের গায়ের চামড়ায় একদম লাগে না।

​বিরোধী দলের নেতাদের জেলের ভাত খাওয়ানো এদের জন্য এক পরম তৃপ্তি।

​জনগণের কষ্টের অর্জিত টাকা দিয়ে এরা ক্ষমতার বড়ি কেনে।

​এই খাদ্যাভ্যাস এতটাই ভয়ংকর যে পুরো দেশটাই এরা গিলে ফেলতে চায়।

​ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বনাম আমার বাকস্বাধীনতা: একটি ট্র্যাজিক কমেডি

​ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার আগে এখন ওছিয়ত নামা লিখে রাখতে হয়।

​সত্য কথা বললে মামলা আর মিথ্যা বললে পদক—এটাই এই আইনের মহিমা।

​ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো সেই কাঁচি যা আপনার জিহ্বা ছোট রাখতে সাহায্য করে।

​আমরা এখন এমন এক যুগে যেখানে লাইক দেওয়াটাও একটা বড় সাহসিকতা।

​বাকস্বাধীনতা এখন শুধুমাত্র ডিকশনারিতে সুন্দর দেখায় বাস্তবে জেলের ভেতর থাকে।

​এই আইনে অপরাধী হওয়া খুব সহজ শুধু একটু সত্যি কথা বললেই হয়।

​কিবোর্ডের চেয়ে এখন জেলের তালা বেশি শক্তিশালী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সরকারের সমালোচনা করা মানেই হলো ডিজিটাল কারাগারের ফ্রিতে মেম্বারশিপ পাওয়া।

​আপনার স্মার্টফোনের চেয়েও স্মার্ট হলো আপনার ওপর নজর রাখা গোয়েন্দা বাহিনী।

​বাকস্বাধীনতা আছে কিন্তু কথা বলার পর স্বাধীনতার গ্যারান্টি নেই।

​এই ট্র্যাজিক কমেডিতে ভিলেন হিসেবে আইন আছে কিন্তু হিরো নেই।

​আপনার ফেসবুক প্রোফাইল এখন আপনার সবচেয়ে বড় চার্জশিট।

​কমেন্ট বক্সে ডট দেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো নিরাপদ অপশন নেই।

​ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো বাকস্বাধীনতার কফিনে শেষ পেরেক।

​এখানে শুধু সরকারের গুণগান গাওয়ার জন্য স্বাধীনতা বরাদ্দ আছে।

​পাতি নেতাদের চামচামি ও তেল মর্দনের আধুনিক গাইডবুক

​বড় নেতার পায়ের কাছে বসে থাকাটাই এই পাতি নেতাদের পিএইচডি ডিগ্রি।

​তেলের দাম বাড়লেও এদের তেল মর্দনের কোয়ালিটি কখনো কমে না।

​নেতার হাঁচি দিলেও এরা টিস্যু নিয়ে দৌড়ে গিয়ে উন্নয়ন খুঁজে পায়।

​এই নেতাদের তেলের জোয়ারে দেশের রাজপথ এখন পিচ্ছিল হয়ে গেছে।

​চামচামি না করলে পদ পাওয়া যায় না—এটাই এই গাইডবুকের প্রথম পাতা।

​নেতার অন্যায়কে জায়েজ করতে এরা প্রয়োজনে দিনকে রাত বলতেও দ্বিধা করে না।

​এদের মুখে সবসময় নেতার প্রশংসা আর পকেটে থাকে জনগণের লুটের অংশ।

​পাতি নেতাদের তেলের পরিমাণ এতই বেশি যে এরা বিনা লুব্রিকেন্টেই সব গিলে ফেলে।

​নেতার গাড়ি পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে পায়ের জুতো মোছা—সবই এদের ক্যারিয়ার গ্রোথ।

​এরা নেতার চেয়েও বড় নেতা সাজার চেষ্টা করে সাধারণ মানুষের সামনে।

​চামচামির এই অলিম্পিকে এরা প্রতি বছর গোল্ড মেডেল জেতে।

​নেতার বাসার ড্রয়িং রুমে পড়ে থাকাটাই এদের জীবনের পরম সার্থকতা।

​এদের তেলের কারণেই স্বৈরাচাররা নিজেদের অজেয় মনে করতে শুরু করে।

​চামচামি করতে গিয়ে এরা নিজের আত্মসম্মান অনেক আগেই মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছে।

​পাতি নেতাদের এই তেল মর্দন আসলে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হওয়ার চরম নিদর্শন।

​হেলিকপ্টার থেকে শাপলা চত্বর দেখা ও গণবিপ্লবের স্মৃতিচারণ

​হেলিকপ্টার থেকে নিচের মানুষগুলোকে পিঁপড়ের মতো দেখালেও তারাই কিন্তু আসল শক্তি।

​উপর থেকে বিপ্লব দেখা যায় কিন্তু মানুষের মনের আগুন অনুভব করা যায় না।

​হেলিকপ্টারে বসে পালানোর দৃশ্যটা ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।

​রাজপথ যখন প্রকম্পিত হয় তখন আকাশ থেকে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

​শাপলা চত্বরের সেই স্মৃতি আজও স্বৈরাচারীদের রাতের ঘুম হারাম করে দেয়।

​গণবিপ্লবের ঢেউ হেলিকপ্টারের পাখার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

​উপর থেকে রাজপথ শান্ত মনে হলেও নিচে কিন্তু লাভার মতো ক্ষোভ জমে থাকে।

​হেলিকপ্টার আপনাকে আকাশ দেখাতে পারে কিন্তু জনগণের ভালোবাসা দিতে পারে না।

​গণঅভ্যুত্থানের সময় হেলিকপ্টারই হয় পালানোর একমাত্র শেষ ভরসা।

​আকাশ থেকে বিপ্লব দেখাটা অনেকটা দুঃস্বপ্নের সিনেমা দেখার মতো.

​শাপলা চত্বরের সেই আওয়াজ আজও ইথারে ইথারে প্রতিধ্বনিত হয়।

​হেলিকপ্টারের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যগুলো পরাজয়ের গ্লানি বাড়িয়ে দেয়।

​যখন পায়ের নিচের মাটি সরে যায় তখন মানুষ আকাশে আশ্রয় খোঁজে।

​গণবিপ্লব হলো সেই ঝড় যা বড় বড় হেলিকপ্টারকেও মাটিতে নামিয়ে আনে।

​ইতিহাসের এই স্মৃতিচারণগুলো প্রতিটি স্বৈরাচারের জন্য এক একটা সতর্কবার্তা।

​স্বৈরাচার যখন পালায়: রানিং জুতা বনাম সাধারণ জনগণের দৌড়ানি

​পলায়নরত স্বৈরাচারের জন্য প্রটোকল নয় একজোড়া মজবুত রানিং জুতা দরকার।

​জনগণের দৌড়ানি যখন শুরু হয় তখন কোনো বুলেট আর কাজে আসে না।

​যে নেতা গর্জন করত তাকেই দেখা যায় পেছনের দরজা দিয়ে স্যান্ডেল হাতে দৌড়াতে।

​হেলিকপ্টার পর্যন্ত পৌঁছানোর এই দৌড় প্রতিযোগিতায় কোনো ট্রফি নেই শুধু লজ্জা আছে।

​জনগণের ধাওয়া খেলে নেতার দামী স্যুটও তখন ঘামে ভিজে একাকার হয়ে যায়।

​স্বৈরাচার যখন পালায় তখন তার চামচাদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।

​এই রানিং কম্পিটিশনে জনগণই সবসময় শেষ হাসি হাসে।

​পালানোর সময় নেতার দম্ভ ধুলোয় মিশে যায় আর রানিং জুতা হয় একমাত্র সাথি।

​পেছনের দরজা দিয়ে পালানোই হলো স্বৈরাচারী ইতিহাসের ট্র্যাডিশনাল এন্ডিং।

​জনগণের সম্মিলিত গর্জন যখন কানে আসে তখন পালাবার পথও ছোট হয়ে যায়।

​স্বৈরাচারের পতন মানেই হলো হাই হিল বর্জন করে রানিং জুতা গ্রহণ করা।

​এই দৌড়ানিটা আসলে ক্ষমতার অপব্যবহারের করুণ পরিণতির দৃশ্য।

​নেতার দামী গাড়ি পড়ে থাকে রাজপথে আর নেতা দৌড়ায় সরু গলি দিয়ে।

​রানিং জুতায় পা দিয়ে তারা আসলে নিজেদের পাপ থেকে বাঁচার বৃথা চেষ্টা করে।

​জনগণের এই চূড়ান্ত দৌড়ানি স্বৈরাচারী শাসনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।

​দেশের টাকা পাচার ও বিদেশের সেকেন্ড হোম

​উন্নয়ন মানেই হলো এদেশের টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে আয়নাঘর বানানো।

​নেতারা বলেন দেশপ্রেমের কথা কিন্তু তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বলে বেগমপাড়ার কথা।

​দেশের মানুষ খাচ্ছে ডাল-ভাত আর নেতার টাকা খাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক।

​সেকেন্ড হোম তো তাদের জন্য যারা জানে ফার্স্ট হোমে পালানোর দরজা একটাই।

​এদেশের রোদে তাদের চামড়া পুড়ে যায় তাই ঠান্ডার দেশে আগেভাগেই এসি ঘর কিনে রাখেন।

​দেশের টাকায় বিদেশের মাটিতে রানিং ট্র্যাক বানানোই হচ্ছে আধুনিক দেশপ্রেম।

​পাসপোর্ট সবসময় রেডি থাকে কারণ কখন আবার রানিং জুতা পরে দৌড় দিতে হয়!

​এদের কাছে দেশটা হলো একটা টাকা তৈরির মেশিন আর বিদেশ হলো রিটায়ারমেন্ট হোম।

​কানাডার বেগমপাড়ায় বসে এদেশের উন্নয়নের গল্প করার মজাই আলাদা।

​সেকেন্ড হোমে যাওয়ার আগে তারা এদেশের সাধারণ মানুষকে গৃহহীন করে দিয়ে যায়।

​উন্নয়ন এতটাই হয়েছে যে এদেশের ব্যাংকে আর টাকা রাখার জায়গা হচ্ছে না।

​ডলার সংকট শুধু আমাদের জন্য নেতাদের তো সব খরচ হয় ইউরো আর ডলারে।

​এদেশের মাটি তাদের জন্য উত্তপ্ত তাই বিদেশের বরফে তারা পা ভিজিয়ে রাখেন।

​দেশের টাকা পাচার করে তারা বিদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করায় ব্যস্ত।

​পালানোর সময় তারা শুধু নিজেদের সেকেন্ড হোমের চাবিটাই সাথে নিয়ে যায়।

​রাতের বেলা ব্যালট বাক্সের গোপন রোমান্স

​দিনের আলোতে গণতন্ত্র লজ্জা পায় তাই রাতের অন্ধকারেই সব ভালোবাসা সেরে নেওয়া হয়।

​ব্যালট বাক্স আর ব্যালট পেপারের এই প্রেমকাহিনী লাইলি-মজনু কেউ হার মানাবে।

​ভোটাররা ঘুমালে কি হবে ব্যালট বাক্স তো আর ঘুমায় না সারা রাত কাজ করে।

​রাতের বেলা ব্যালট বাক্সে সিল মারলে আঙ্গুলে কালির দাগ লাগে না কিন্তু বিবেক কালো হয়।

​সকালে ঘুম থেকে উঠে ভোটাররা দেখে তাদের ভালোবাসা আগেই বাক্সবন্দী হয়ে গেছে।

​দিনের বেলা ভোটকেন্দ্রে কাক ডাকে আর রাতের বেলা ব্যালট বক্সে সিল নাচে।

​এই রোমান্স এতটাই গভীর যে প্রিজাইডিং অফিসারও তখন চোখ বন্ধ করে থাকে।

​রাতের আঁধারে গণতন্ত্রের বিয়ে হয়ে যায় জনগণ শুধু পরের দিন বাসি খাবার পায়।

​ব্যালট পেপারগুলো রাতের অন্ধকারে নিজেরাই নিজেদের গন্তব্য খুঁজে নেয়।

​জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় খালি বাক্সগুলো সকালে ফুলে-ফেঁপে একদম ঢোল হয়ে যায়।

​দিনের আলোতে জনগণের সিরিয়াল আর রাতের বেলা ব্যালট পেপারের উৎসব।

​রোমান্টিক ডিনার শেষে ব্যালট বাক্সগুলো যখন তৃপ্তির ঢেকুর তোলে তখনই ফলাফল চূড়ান্ত।

​এই প্রেমের সাক্ষী শুধু রাতের চাঁদ আর নেতার বিশ্বস্ত হেলমেট বাহিনী।

​ভোটারদের উপস্থিতির দরকার নেই ব্যালট বাক্সগুলো নিজেরাই নিজেদের ভোট দিয়ে দেয়।

​রাতের এই গোপন কাজগুলোই দিনের বেলা ‘ভূমিধস বিজয়’ হিসেবে পরিচিত হয়।

​সিন্ডিকেট ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের পকেট কাটা

​বাজারের আগুন আমাদের পোড়ায় কিন্তু নেতাদের ড্রয়িং রুমে আলো দেয়।

​পকেট কাটার এই আর্টে সিন্ডিকেট সদস্যরা ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে বসে আছে।

​পেঁয়াজের দাম বাড়লে নেতার হাসিমুখের ম্যুরালগুলো যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

​সাধারণ মানুষ যখন লিস্ট করে বাজার করে সিন্ডিকেট তখন লিস্ট করে লাভ গোনে।

​সিন্ডিকেট মানেই হলো একদল চোরের সম্মিলিত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা।

​তেলের দাম বাড়লে এদের পেটে তেল জমে আর জনগণের হাড় বের হয়ে আসে।

​বাজারের ব্যাগ খালি হাতে ফেরাটাই এখনকার সবচেয়ে বড় অ্যাডভেঞ্চার।

​সিন্ডিকেট সদস্যরা একে অপরের পিঠ চুলকায় আর জনগণ নিজের মাথা চুলকায়।

​সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা এই সিন্ডিকেটগুলো আসলে পকেটমারদের জাতীয় দল।

​উন্নয়ন মানেই হলো চালের দাম বাড়তে বাড়তে আকাশ ছোঁয়া আর মানুষের আয় নিচে নামা।

​বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার গল্প আসলে টিভিতে দেখানো একটা কমেডি শো।

​সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্য এদের কোনো সিজার বা কাঁচি লাগে না সিন্ডিকেটই যথেষ্ট।

​এই ব্যবসায় লস নেই কারণ কাস্টমাররা মরলেও সিন্ডিকেট মরে না।

​আপনি যখন আলু কেনেন তখন জানবেন তার অর্ধেক টাকা চলে গেছে দুবাইয়ের ফ্লাটে।

​সিন্ডিকেট হলো স্বৈরাচারের সেই অক্সিজেন যা দিয়ে তারা ক্ষমতার শ্বাস নেয়।

​ফেসবুকের কমেন্ট সেকশন ও গোয়েন্দা নজরদারি

​আপনি যখন ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দিচ্ছেন গোয়েন্দারা তখন আপনার বাড়ির ম্যাপ দেখছে।

​ফেসবুকে মনের কথা বলা মানেই হলো আয়নাঘরের ফ্রিতে দাওয়াত নেওয়া।

​ইনবক্সেও এখন সাবধান কারণ দেওয়ালেরও কান আছে আর ফেসবুকের স্ক্রিনশটও আছে।

​ডিজিটাল নজরদারি এতই আধুনিক যে আপনার চিন্তাও এখন পুলিশের আওতায়।

​আপনি কার পোস্টে কমেন্ট করলেন তার চেয়ে জরুরি আপনি কেন সরকারের নাম নিলেন।

​ফেসবুক এখন বাকস্বাধীনতার জায়গা নয় এটা একটা বিশাল ডিজিটাল চার্জশিট।

​কমেন্ট বক্সে সত্য লিখতে গেলে কিবোর্ডটা কেন যেন থমকে দাঁড়ায়।

​গোয়েন্দারা আপনার প্রোফাইল পিকচারের চেয়ে আপনার রাজনৈতিক মতবাদ বেশি পছন্দ করে।

​একদল পেইড বাহিনী আপনার কমেন্টের ওপর নজর রাখতে গিয়ে নিজের ভাত পুড়িয়ে ফেলে।

​ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আপনি যত না লাইক পাবেন তার চেয়ে বেশি আইনি নোটিশ পাবেন।

​আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এখন গোয়েন্দাদের ড্রয়িং রুমের বিনোদন।

​কমেন্ট করার আগে একবার আয়নাঘরের কথা ভাবলে আঙ্গুলগুলো অবশ হয়ে যায়।

​সরকার নিয়ে ট্রল করা মানেই হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের স্পেশাল গেস্ট হওয়া।

​সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর সোশ্যাল নেই এটা এখন সরকারি নজরদারির ল্যাবরেটরি।

​আপনার প্রতিটি পোস্টের নিচে অদৃশ্য একদল মানুষ পেন্সিল দিয়ে মামলার খসড়া তৈরি করে।

​স্বৈরাচারের পতন ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

​ক্ষমতার চেয়ারটা যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তখন কোনো আঠা কাজে আসে না।

​ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর এটি প্রত্যেক ডিক্টেটরকে একই গন্তব্যে নিয়ে যায়।

​দম্ভ যখন আকাশ ছোঁয় তখন মাটি থেকে পতনটা খুব বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়।

​যারা মনে করত তারা অমর আজ তাদের ছবি ডাস্টবিনে উড়ছে।

​ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি মানেই হলো কোনো এক নেতার স্যান্ডেল ফেলে পালানো।

​দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সাধারণ মানুষ যখন গর্জে ওঠে তখন বুলেটও লজ্জা পায়।

​স্বৈরাচাররা ইতিহাস পড়ে না তাই তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।

​পতন যখন আসে তখন সব অনুগত বাহিনীও নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যায়।

​মসনদ হারানো নেতা তখন বুঝতে পারে জনগণের ভালোবাসা কেনা যায় না।

​ক্ষমতার মায়া কাটানো কঠিন কিন্তু জনগণের ঘৃণা কাটানো অসম্ভব।

​ইতিহাসের পাতায় আপনার নামটা হিরো হিসেবে থাকবে নাকি ভিলেন তা পতনই বলে দেয়।

​স্বৈরাচার যখন পড়ে তখন আকাশ-বাতাসও যেন মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

​জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি হলো সেই ঝড় যা বড় বড় দুর্গও গুঁড়িয়ে দেয়।

​ইতিহাসের এই শিক্ষাটি চিরন্তন—অন্যায়ের আয়ু বড়ই সংক্ষিপ্ত।

​পতন শেষে আয়নাঘরের দরজাগুলো যখন খুলে যায় তখন সূর্যের আলোই হয় শেষ হাসি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *