প্রবাস জীবন নিয়ে ক্যাপশন, স্টাটাস উক্তি ৩২০ টি

প্রবাসী মানেই দূরে থেকেও আপনজনের জন্য নিঃশব্দ সংগ্রাম। পরিবারের হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে তাদের না বলা কষ্ট আর দীর্ঘ অপেক্ষা। ভিন্ন দেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে যারা নিজের স্বপ্নের পাশাপাশি দেশের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে, তারাই প্রবাসী। তাদের ত্যাগ, ধৈর্য আর ভালোবাসায় গড়ে ওঠে অসংখ্য পরিবারের ভবিষ্যৎ। আপনার পছন্দের স্ট্যাটাস, ক্যাপশন উক্তি এখান থেকে কপি করে শেয়ার করতে পারবেন।

১. প্রবাস জীবন নিয়ে ক্যাপশন

​প্রবাস জীবন মানে—এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আসা, আর এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা।

​পাসপোর্টের পাতায় ভিসা আছে, কিন্তু মনের পাতায় শুধুই দেশের স্মৃতি।

​প্রবাসে সকাল হয় অ্যালার্মের শব্দে, আর রাত কাটে প্রিয়জনদের ছবি দেখে।

​এখানে টাকা ওড়ে সত্যি, কিন্তু সেই টাকার সাথে প্রবাসীর ঘাম আর কান্না মিশে থাকে।

​প্রবাস জীবন মানে—নিজের যৌবন বিক্রি করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

​লোকে দেখে আমার বিলাসী জীবন, কিন্তু কেউ দেখে না আমার একাকীত্ব।

​দেশের মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন নিয়েই কেটে যায় বছরের পর বছর।

​প্রবাস মানেই স্যাক্রিফাইস। নিজের সব শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে অন্যের শখ পূরণ করা।

​আমরা প্রবাসী, আমাদের অসুস্থ হতে মানা। কারণ এখানে সেবা করার কেউ নেই।

​মাটির টান যে কত তীব্র, তা একমাত্র প্রবাসে থাকলেই বোঝা যায়।

​এখানে সবই আছে, শুধু “মা” বলে ডাকার মানুষটা নেই।

​প্রবাস জীবন শিখিয়েছে—বাস্তবতা স্বপ্নের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

​ফোনের স্ক্রিনে প্রিয়জনের হাসি দেখেই আমাদের ঈদ পালন করতে হয়।

​প্রবাস মানে—হাসিমুখে মিথ্যে বলা, “মা, আমি ভালো আছি, ঠিকমতো খেয়েছি।”

​শরীরটা বিদেশে, কিন্তু মনটা পড়ে থাকে বাংলার ওই মেঠো পথে।

​২. প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস

​জ্বর হলে মাথায় জলপট্টি দেওয়ার কেউ নেই, নিজের সেবা নিজেকেই করতে হয়। এটাই প্রবাস।

​ঈদের দিন যখন সবাই নামাজ পড়ে কোলাকুলি করে, তখন আমি ডিউটিতে। এই কষ্টের ভাগ কেউ নেয় না।

​প্রবাসীদের কষ্টগুলো চার দেওয়ালের মধ্যেই বন্দি থাকে, বাইরে বের হলে শুধু হাসিমুখটাই দেখা যায়।

​মাসের শেষে বেতন পাই ঠিকই, কিন্তু জীবন থেকে যে সময়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে, তা আর ফেরত পাব না।

​সবাই জিজ্ঞেস করে “কত টাকা পাঠালি?”, কেউ জিজ্ঞেস করে না “আজ কী দিয়ে ভাত খেল?”

​প্রবাসে মৃত্যুভয় সব সময় তাড়া করে। ভয় হয়, যদি দেশের মাটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে না পারি।

​হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যখন রুমে ফিরি, তখন কথা বলার মতো শক্তিটুকুও থাকে না।

​নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ার কষ্টটা শুধু প্রবাসীরাই বোঝে। মাঝে মাঝে মায়ের হাতের ভাতের গন্ধ নাকে ভাসে।

​টাকার প্রয়োজনে প্রিয়জনদের ছেড়েছি, এখন টাকার স্তূপে বসে প্রিয়জনদের অভাব বোধ করি।

​প্রবাসীদের কোনো ছুটি নেই। এদের জীবনটা ঘড়ির কাঁটার সাথে বাঁধা।

​কত রাত যে বালিশ ভিজিয়ে ঘুমিয়েছি, তা পাশের রুমের মানুষটাও জানে না।

​দেশে থাকতে ভাবতাম প্রবাস মানেই সুখ, এখন বুঝি প্রবাস মানেই সোনার খাঁচা।

​আমার যৌবনটা খেয়ে ফেলল এই প্রবাস, বিনিময়ে দিল কিছু রঙিন কাগজ (টাকা)।

​অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও দেখার কেউ নেই, পানির গ্লাসটা এগিয়ে দেওয়ার লোক নেই।

​প্রবাসীদের চোখের পানির কোনো দাম নেই, কারণ তা রেমিটেন্স হয়ে দেশে যায় না।

​৩. প্রবাস জীবন নিয়ে উক্তি

​”প্রবাস হলো এমন এক জেলখানা, যেখানে কোনো শিকল নেই, কিন্তু পালানোর উপায়ও নেই।”

​”যারা মনে করে প্রবাসে টাকার গাছ আছে, তারা জানে না সেই গাছের সার হলো প্রবাসীর রক্ত-ঘাম।”

​”প্রবাসী মানে—পরিবারের সুখের জন্য নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়া এক মোমবাতি।”

​”প্রবাস জীবন তোমাকে টাকার গুরুত্ব শেখাবে, আর সম্পর্কের শূন্যতা অনুভব করাবে।”

​”দেশের মায়া ত্যাগ করা সহজ নয়, কলিজায় পাথর বেঁধেই প্রবাসে থাকতে হয়।”

​”একজন প্রবাসী তার নিজের জন্য বাঁচে না, সে বাঁচে তার পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য।”

​”প্রবাসীদের জীবনের গল্পগুলো ট্র্যাজেডি নাটকের চেয়েও বেশি করুণ হয়।”

​”টাকা দিয়ে হয়তো অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু প্রবাসে হারিয়ে যাওয়া সময় কেনা যায় না।”

​”প্রবাস জীবন মানে—জীবন্ত লাশের মতো যান্ত্রিকভাবে বেঁচে থাকা।”

​”দূরের দেশ থেকে দেশের মায়া বড় বেশি টানে, কিন্তু দায়িত্বের শিকল পায়ে আটকে রাখে।”

​”প্রবাসীরা হলো দেশের অর্থনৈতিক যোদ্ধা, যাদের কোনো অস্ত্র নেই, আছে শুধু শ্রম।”

​”মা-মাটির টান উপেক্ষা করে যারা বিদেশে থাকে, তাদের চেয়ে শক্তিশালী মানুষ আর নেই।”

​”প্রবাসে কেউ কারো আপন নয়, এখানে সবাই যার যার স্বার্থের গোলাম।”

​”স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রবাসে এসে অনেকেই স্বপ্নের কবর রচনা করে।”

​”প্রবাসী মানেই এক বুক হাহাকার আর এক সমুদ্র দীর্ঘশ্বাস।”

​৪. প্রবাসী কষ্টের ছন্দ

​টাকার পিছে ছুটছি মোরা, সুখটা গেল কই?

প্রবাস জীবন বড়ই কঠিন, আপন ছাড়া রই।

মা জননী পথ চেয়ে রয়, খোকা আসবে কবে?

খোকার জীবন শেষ হয়ে যায়, প্রবাস নামের ভবে।

​সোনার খাঁচায় বন্দি আমি, মন যে মানে না,

দেশের মাটির গন্ধ ছাড়া, প্রাণ তো বাঁচে না।

ঈদ আসে ঈদ চলে যায়, নতুন জামা নাই,

প্রবাস জীবনে কষ্টের কোনো, সীমানা যে নাই।

​ঘাম ঝরিয়ে আনি টাকা, সবাই থাকে সুখে,

আমার কথা ভাবে না কেউ, দুঃখ আমার বুকে।

ফোনের ওপার হাসলে সবাই, আমি হাসি এপার,

প্রবাসীদের জীবনটা ভাই, শুধুই হাহাকার।

​মাগো তোমার হাতের রান্না, খেতে ইচ্ছে করে,

লোভী এই মন শুধু আমার, দেশের পানে ওড়ে।

পাসপোর্টটা হাতে নিয়ে, দেখি ভিসার মেয়াদ,

প্রবাস জীবন কেড়ে নিল, আমার সব আহ্লাদ।

​রেমিটেন্সের যোদ্ধা আমি, দেশের গর্ব ভাই,

নিজের সুখের খবর কিন্তু, রাখার মানুষ নাই।

জ্বর আসলে একলা শুয়ে, কাঁদি সারা রাত,

কেউ তো এসে মাথায় আমার, রাখে না রে হাত।

​বিমান যখন উড়াল দিল, ছাড়লাম যখন দেশ,

বুঝিনি তো প্রবাস জীবন, কষ্টের এক বেশ।

বন্ধু-বান্ধব সব হারিয়ে, এখন আমি একা,

কবে জানি দেশের সাথে, হবে আমার দেখা।

​রোদে পুড়ে বৃষ্টি ভিজে, করি কত কাজ,

ক্লান্ত দেহে রুমে ফিরি, যখন নামে সাঁঝ।

নিজের হাতে রান্না করি, নিজের হাতে খাই,

মায়ের আদর পাওয়ার মতো, ভাগ্য আমার নাই।

​ইট পাথরের দালান কোঠা, সবই অচেনা,

টাকার জন্য করছি আমি, এই বেচাকেনা।

যৌবনটা শেষ করে, যখন ফিরব বাড়ি,

চিনবে কি আর আপনজন, না দেবে আড়ি?

​প্রবাস মানে মরিচিকা, দূর থেকে সব আলো,

কাছে গেলে বোঝা যায়, কতটা আঁধার কালো।

স্বপ্নগুলো মরে গেছে, বাস্তবতার চাপে,

প্রবাসী মন ভয়ে ভয়ে, প্রতি ক্ষণে কাঁপে।

​টাকা টাকা করে সবাই, মানুষ চিনে না,

প্রবাসীর এই বুকের ব্যথা, কেউ তো কিনে না।

একটু সুখের আশায় আমি, পাড়ি দিলাম পথ,

থেমে গেছে মাঝপথে, আমার জীবনের রথ।

​ঈদের নামাজ পড়ে যখন, ফিরি একা ঘরে,

কলিজাটা ফেটে যায়, হাহাকার করে।

সেমাই খাওয়ার ধুম পড়েছে, দেশে সবার বাড়ি,

আমি শুধু দূর থেকে, দেখি সারি সারি।

​ভিডিও কলে দেখে মুখ, শান্তি নাহি পাই,

বাস্তবে তো ছোঁয়ার মতো, সাধ্য আমার নাই।

প্রযুক্তির এই মেকি সুখে, ভরছে না তো মন,

প্রবাস জীবন কেড়ে নিল, আমার আপনজন।

​মাস শেষে বেতন পেয়ে, পাঠাই যখন দেশে,

সবাই তখন খুশি হয়, কতই ভালোবেসে।

টাকা শেষ হলে পরে, কেউ তো খোঁজ লয় না,

প্রবাসীর এই নীরব কান্না, কেউ তো আর সয় না।

​মাটির মানুষ মাটির টানে, ফিরতে চায় যে রোজ,

কে নেবে এই অভাগা, প্রবাসীর খোঁজ?

জীবন খাতা শূন্য আমার, প্রাপ্তি কিছু নাই,

শেষ বয়সে যেন আমি, দেশের মাটি পাই।

​হায়রে প্রবাস, হায়রে জীবন, কী দিবি আর তুই?

কবর যেন হয় আমার, দেশের মাটির ছুঁই।

এই মিনতি করি আমি, প্রভুর দরবারে,

শেষ দেখাটা যেন পাই, আপন পরিবারে।

​ হায়রে প্রবাস জীবন ক্যাপশন

​হায়রে প্রবাস জীবন! যেখানে নিজের জন্মদিনে নিজেকেই কেক কেটে সান্ত্বনা দিতে হয়।

​হায়রে প্রবাস! তুই আমাকে টাকা দিলি ঠিকই, কিন্তু কেড়ে নিলি জীবনের সোনালী সময়গুলো।

​দেশের মানুষ ভাবে আমরা টাকার পাহাড়ে ঘুমাই। হায়রে প্রবাস, তুই জানিস আমরা কতটা কষ্টে ঘুমাই।

​হায়রে প্রবাস জীবন, যেখানে মায়ের মৃত্যুর খবর শুনেও যাওয়ার উপায় থাকে না।

​ভাবছিলাম প্রবাসে এসে সুখ কিনব। হায়রে কপাল, সুখ তো দূরের কথা, ঘুমও বিক্রি করে দিলাম।

​হায়রে প্রবাস! যৌবন চুষে নিয়ে এখন বার্ধক্যে উপহার দিচ্ছিস একলা থাকার যন্ত্রণা।

​হায়রে প্রবাস জীবন, তুই শিখিয়েছিস আপন মানুষগুলোও কীভাবে টাকার জন্য বদলে যায়।

​সকালে কাজ, রাতে কাজ। হায়রে প্রবাস, তুই আমাকে রোবট বানিয়ে দিলি।

​হায়রে প্রবাস! তোর মায়ায় পড়ে আমি আজ নিজ দেশে পরবাসী, আর এখানেও পরবাসী।

​টাকার নেশায় এসেছিলাম, এখন দেশে ফেরার নেশায় পাগল। হায়রে প্রবাস জীবন।

​হায়রে প্রবাস, তোর বুকে কত তরুণের স্বপ্ন যে নীরবে দাফন হয়েছে, তার হিসাব নেই।

​দেশে থাকতে ভাবতাম কবে বিদেশ যাব। হায়রে প্রবাস, এখন ভাবি কবে দেশ যাব।

​হায়রে প্রবাস জীবন! এখানে আবেগের কোনো দাম নেই, দাম আছে শুধু ডলার আর রিয়ালের।

​অসুস্থ শরীরেও কাজে যেতে হয়। হায়রে প্রবাস, তোর বুকে দয়ামায়া বলে কিছু নেই।

​হায়রে প্রবাস! তুই আমাকে অনেক কিছু দিয়েছিস, কিন্তু বিনিময়ে নিয়েছিস আমার “আমি” টাকে।

​প্রবাসী বউদের কষ্টের স্ট্যাটাস

​আমার স্বামী টাকার মেশিন নয়, তিনি আমার ভালোবাসার মানুষ। তার সুস্থতাই আমার কাছে সব।

​প্রবাসী স্বামীর পথ চেয়ে বসে থাকার যন্ত্রণা শুধু একজন স্ত্রীই বোঝে। প্রতিটি রাত কাটে অপেক্ষায়।

​মানুষ দেখে আমার স্বামী বিদেশ থাকে, আমি সুখে আছি। কিন্তু কেউ দেখে না আমার একাকীত্ব।

​স্বামীর পাঠানো টাকায় শাড়ি গহনা কিনি ঠিকই, কিন্তু সেই শাড়ি পরে দেখানোর মানুষটাই পাশে নেই।

​প্রবাসী স্বামীর বউ হওয়া সহজ নয়। বছরের পর বছর একা সংসার সামলাতে হয়, বাবার এবং স্বামীর ভূমিকা পালন করতে হয়।

​ঈদের দিনে সবাই যখন স্বামীর হাত ধরে ঘোরে, আমি তখন মোবাইলে তার ছবি দেখে দিন পার করি।

​আমার স্বামী আমার জন্য রক্ত পানি করা পরিশ্রম করে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অফুরন্ত।

​মাঝে মাঝে খুব হিংসে হয় তাদের ওপর, যারা প্রতিদিন স্বামীর বুকে মাথা রেখে ঘুমায়।

​প্রবাসী স্বামীর বউদের চোখের জল বালিশেই শুকায়। কাউকে বলা যায় না, পাছে লোকে কিছু বলে।

​তিনি দূরে আছেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য। এই ত্যাগ আমি শ্রদ্ধার সাথে মেনে নিয়েছি।

​ভিডিও কলে কথা বলে কি আর মনের তৃষ্ণা মেটে? খুব ইচ্ছে করে একবার জড়িয়ে ধরতে।

​সমাজ ভাবে প্রবাসী স্বামীর বউ মানেই অহংকারী। তারা জানে না, আমরা কতটা অসহায়।

​সন্তান যখন বাবাকে খোঁজে, তখন তাকে বুঝ দেওয়ার ভাষা আমার থাকে না।

​আমার স্বামীর ঘামের গন্ধে মেশানো টাকা আমি অপচয় করতে পারি না। প্রতিটি পয়সায় তার কষ্ট মিশে আছে।

​অপেক্ষা করছি সেই দিনের, যেদিন তিনি একেবারে চলে আসবেন। টাকা চাই না, মানুষটাকে চাই।

​ প্রবাস জীবন নিয়ে কিছু কথা (উপলব্ধি)

​প্রবাসীদের কখনো হিংসা করবেন না। তারা যে জীবন পার করে, তা আপনারা এক সপ্তাহও সহ্য করতে পারবেন না।

​একজন প্রবাসী যখন দেশে ফেরে, তখন তাকে শুধু টাকার জন্য না, তার ত্যাগের জন্য সম্মান করুন।

​প্রবাসীরা বয়সের আগেই বুড়ো হয়ে যায়। অতিরিক্ত পরিশ্রম আর দুশ্চিন্তা তাদের যৌবন কেড়ে নেয়।

​আপনার প্রবাসী বন্ধুটি হয়তো আপনাকে কল দিতে পারে না, তার মানে এই নয় সে বদলে গেছে। সে জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত।

​প্রবাসীদের কাছে টাকা চাইবেন না, তাদের কাছে দোয়া চান। তাদের টাকা রক্ত দিয়ে কেনা।

​যে ছেলেটা দেশে থাকতে এক গ্লাস পানি ঢেলে খেত না, প্রবাসে সে এখন নিজের কাপড় নিজে ধোয়, রান্না করে।

​প্রবাস জীবন মানুষকে ধৈর্যশীল এবং স্বাবলম্বী হতে শেখায়। এটি এক বাস্তব স্কুল।

​দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের জাতীয় বীরের সম্মান দেওয়া উচিত।

​প্রবাসীরা যখন দেশে যায়, তাদের মেহমান হিসেবে দেখবেন না, তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখুন।

​প্রবাসীদের কষ্ট নিয়ে টিটকারি করবেন না। তারা হাসিমুখে সব সহ্য করে শুধু পরিবারের জন্য।

​প্রবাসে কেউ সুখে নেই, সবাই ভালো থাকার অভিনয় করে যাচ্ছে।

​যারা নতুন প্রবাসে আসতে চান, তাদের বলছি—মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে আসুন, এটা ফুলের বিছানা নয়।

​প্রবাসীরা হলো মোমবাতির মতো, যারা নিজেরা পুড়ে অন্যকে আলোকিত করে।

​মা-বাবার উচিত প্রবাসী সন্তানের খোঁজ নেওয়া, শুধু টাকার খোঁজ না নেওয়া।

​প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—টাকা থাকলে পৃথিবী আপনার, না থাকলে কেউ নেই।

​ প্রবাসি বন্দুর বিদায়

​বিমান যখন উড়াল দেবে, তখন বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠবে। সাবধানে থাকিস বন্ধু।

​এয়ারপোর্টের কাঁচের দেওয়ালটা জানে কত বন্ধুর বিচ্ছেদের সাক্ষী সে। ভালো থাকিস দোস্ত।

​প্রবাসে যাচ্ছিস স্বপ্নের টানে, কিন্তু আমাদের ভুলে যাস না। তোর অপেক্ষায় থাকব।

​বন্ধু, তুই যাচ্ছিস অনেক দূরে, কিন্তু আমাদের স্মৃতিগুলো সব সময় তোর সাথে থাকবে।

​আল্লাহ তোকে সহি সালামতে গন্তব্যে পৌঁছে দিন। তোর সফলতা কামনা করি বন্ধু।

​প্রবাস জীবনটা সহজ নয়, কিন্তু আমি জানি তুই পারবি। নিজের খেয়াল রাখিস।

​বিদায় বন্ধু! চোখের জল আটকাতে পারছি না, কিন্তু তোর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য হাসিমুখে বিদায় দিচ্ছি।

​টাকার পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের শরীর নষ্ট করিস না। মনে রাখিস, আমরা তোকে সুস্থ দেখতে চাই।

​যখনই মন খারাপ হবে, আমাদের কল দিস। দূরত্ব আমাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরাতে পারবে না।

​এয়ারপোর্টে তোকে বিদায় জানানোটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত।

​যাচ্ছিস যা, কিন্তু প্রমিস কর—খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি।

​প্রবাসে নতুন বন্ধু পাবি ঠিকই, কিন্তু এই পাগল বন্ধুগুলোকে রিপ্লেস করিস না।

​তোর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তুই ছিলি আমাদের আড্ডার প্রাণ।

​দোয়া করি, প্রবাস জীবন তোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসুক। শুভ বিদায় বন্ধু।

​তোর ফেরার অপেক্ষায় ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে থাকব। ভালো থাকিস রে ভাই।

​ রেমিটেন্স যুদ্ধা

​আমাদের কোনো অস্ত্র নেই, আমাদের অস্ত্র হলো শ্রম। আমরাই দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা।

​দেশের রিজার্ভ বাড়ে আমাদের পাঠানো টাকায়। আমরা অর্থনীতির নীরব চাকা।

​আমরা সীমান্তে যুদ্ধ করি না, আমরা বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ করি দেশের অর্থনীতির জন্য।

​রেমিটেন্স যোদ্ধারা কখনো হার মানে না। তারা সব প্রতিকূলতাকে জয় করে টাকা পাঠায়।

​আমাকে শ্রমিক বলো না, আমি রেমিটেন্স যোদ্ধা। আমি গর্বিত, আমি দেশের কাজে লাগছি।

​এয়ারপোর্টে আমাদের ভিআইপি সম্মান দেওয়া উচিত, কারণ আমরাই দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাই।

​রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঘাম আর রক্ত মিশে আছে পদ্মাসেতু থেকে মেট্রোরেল—সব কিছুতে।

​আমরা রেমিটেন্স যোদ্ধা, আমরা রোদে পুড়ি, বৃষ্টিতে ভিজি, কিন্তু দেশের চাকা থামতে দিই না।

​স্যালুট সকল রেমিটেন্স যোদ্ধাকে, যারা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজেরা জ্বলেপুড়ে ছাই হয়।

​রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কোনো ক্লান্তি নেই, আছে শুধু দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা।

​আমাদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়েই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটে। আমরা গর্বিত।

​বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধি আমরা। আমরাই আসল রেমিটেন্স হিরো।

​রেমিটেন্স যোদ্ধারা অবহেলিত হতে পারে, কিন্তু তারা পরাজিত নয়।

​রাষ্ট্র আমাদের কী দিল জানি না, কিন্তু আমরা রাষ্ট্রকে উজাড় করে দিই।

​প্রতিটি রেমিটেন্স যোদ্ধার গল্প এক একটি ইতিহাস। ত্যাগের ইতিহাস, শ্রমের ইতিহাস।

​ আমি এক টাকার মেশিন

​পরিবারের কাছে আমি মানুষ নই, আমি শুধুই এক টাকার মেশিন। টাকা দিলে আদর, না দিলে অনাদর।

​আমার শরীরের ব্যথার খোঁজ কেউ নেয় না, সবাই শুধু মাসের এক তারিখে টাকার খোঁজ নেয়।

​হ্যাঁ, আমি টাকার মেশিন। আবেগ-অনুভূতি সব বিসর্জন দিয়েছি টাকার জন্য।

​মেশিন যেমন বিশ্রাম পায় না, আমারও কোনো বিশ্রাম নেই। আমি এক জীবন্ত এটিএম বুথ।

​সবাই ভাবে আমার সুইচ টিপলেই টাকা বের হয়। কেউ জানে না এই টাকার পেছনে কতটা রক্তক্ষরণ আছে।

​আমি এক টাকার মেশিন, যার মেইনটেনেন্স করার কেউ নেই, শুধু ব্যবহার করার মানুষ আছে।

​মা আমাকে ভালোবাসে, নাকি আমার পাঠানো টাকাকে—মাঝে মাঝে এই প্রশ্নটা আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়।

​টাকার মেশিনের কোনো মন থাকতে নেই, তাই আমিও মনটাকে পাথর করে ফেলেছি।

​দেশে গেলে আমি মেহমান, আর বিদেশে আমি টাকার মেশিন। আমার নিজের কোনো পরিচয় নেই।

​মেশিনের যেমন তেল ফুরিয়ে গেলে অচল হয়ে যায়, আমিও টাকা পাঠানো বন্ধ করলে সবার কাছে অচল।

​আমার কান্না কারো কানে পৌঁছায় না, কিন্তু টাকার শব্দ সবাই শুনতে পায়।

​আমি এক টাকার মেশিন, যে নিজের স্বপ্নগুলো গুঁড়ো করে অন্যের স্বপ্ন প্রিন্ট করে দেয়।

​টাকার মেশিনের কোনো ছুটি নেই, উৎসব নেই। আছে শুধু নিরন্তর প্রোডাকশন।

​যখন মরে যাব, তখন হয়তো এই টাকার মেশিনটার কদর সবাই বুঝবে।

​নিজেকে মানুষ ভাবতে ভুলে গেছি, এখন নিজেকে শুধুই এক টাকার মেশিন মনে হয়।

About captionidea

Thanks For Visit Our Website.

Check Also

প্রিয় মানুষ নিয়ে স্ট্যাটাস, ক্যাপশন উক্তি ৩৯০ টি সেরা পোস্ট

প্রিয় মানুষ মানেই জীবনের সবচেয়ে শান্ত আশ্রয়, যার কাছে গেলে সব ক্লান্তি হারিয়ে যায়। তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *