ADVERTISING

২০২৬ সালের শবে বরাত কবে হবে, নামাজের নিয়ম কি? কিভাবে পরতে হবে।

ADVERTISING

মুসলিম উম্মাহর জন্য হিজরি বছরের অন্যতম মহিমান্বিত রজনী হলো ‘লাইলাতুল বরাত’ বা শবে বরাত। ফার্সি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ, শবে বরাত হলো গুনাহ থেকে মুক্তির রাত। মহান আল্লাহ তায়ালা এই রাতে বান্দার গুনাহ মাফ করেন এবং আগামী এক বছরের হায়াত, মউত ও রিযিক নির্ধারণ করেন।

​আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শবে বরাত ২০২৬, নামাজের সঠিক নিয়ম, নিয়ত এবং এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ADVERTISING

শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে?

​শবে বরাত পালিত হয় হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর এই তারিখ নির্ধারিত হয়ে থাকে।

​জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শবে বরাত ২০২৬ এর সম্ভাব্য সময়সূচি নিম্নরূপ:

  • সম্ভাব্য ইংরেজি তারিখ: ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত।
  • সরকারি ছুটি: বাংলাদেশে সাধারণত এই রাতের পরের দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি থাকে।

(বিদ্র: চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে এই তারিখ একদিন আগে বা পরে পরিবর্তিত হতে পারে।)

​শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস ও ফজিলত

শবে বরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করতে উৎসাহিত করেছেন।

​হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন:

​“অর্ধ-শাবানের রাতে (শবে বরাতে) আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।”

(সহীহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

​সুতরাং, এই রাতটি অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত।

​শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত ও পড়ার নিয়ম

​অনেকেই জানতে চান, শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত বা এর বিশেষ কোনো পদ্ধতি আছে কি না। মূলত শবে বরাতের জন্য নির্ধারিত কোনো বিশেষ নামাজ নেই, যা আছে তা হলো নফল নামাজ।

​নামাজের নিয়ম:

​১. রাকাত সংখ্যা: নফল নামাজ সাধারণত ২ রাকাত করে পড়া হয়। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ২, ৪, ৬, ৮, ১২ বা তার বেশি রাকাত পড়তে পারেন। সংখ্যার চেয়ে নামাজের খুশুখুজু (মনোযোগ) বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. ধীরস্থিরতা: নফল নামাজে রুকু ও সেজদা দীর্ঘ করা উত্তম। তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করা উচিত।

​শবে বরাতের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়?

​এই নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা বাধ্যতামূলক নয়।

  • ​সূরা ফাতিহার (আলহামদু) সাথে কুরআনের যেকোনো সূরা মিলিয়ে নামাজ আদায় করা যায়।
  • ​অনেকে প্রতি রাকাতে সূরা ইখলাস ৩ বার বা তার বেশি পাঠ করেন, যা মুস্তাহাব আমল হিসেবে গণ্য হতে পারে, তবে এটি আবশ্যক নয়। আপনি যে সূরা ভালো পারেন, সেটি দিয়েই নামাজ পড়ুন।

​শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

​নিয়ত হলো অন্তরের সংকল্প। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে মনের প্রস্তুতির জন্য মুখে বলা যেতে পারে।

বাংলায় নিয়ত:

​“আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে শবে বরাতের ২ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।”

আরবি নিয়ত (উচ্চারণ):

“নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতাই সালাতি লাইলাতুল বারাআতিন নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।”

​এই রাতের অন্যান্য আমল

​শুধুমাত্র নামাজই নয়, শবে বরাতের নামাজ ছাড়াও এই রাতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে:

  1. কুরআন তিলাওয়াত: বেশি বেশি কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা।
  2. ইস্তেগফার: মহান আল্লাহর কাছে অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া।
  3. দোয়া: নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা।
  4. কবর জিয়ারত: সম্ভব হলে নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করা।
  5. রোজা: শবে বরাতের পরের দিন (১৫ই শাবান) নফল রোজা রাখা।

​পরিশেষ

শবে বরাত ২০২৬ আমাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি, বরকত এবং মাগফিরাত। আসুন, আমরা এই রাতে সকল প্রকার কুসংস্কার ও আতশবাজি পরিহার করে নিভৃতে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক উপায়ে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Scroll to Top