হজ্জ ও ওমরার সঠিক নিয়ম

হজ্জ ও ওমরা মুসলমানদের জীবনে সবচেয়ে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদতের অংশ। আল্লাহর ঘর বাইতুল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা, রহমত ও আত্মশুদ্ধির যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। হজ্জ ফরজ ইবাদত হিসেবে আত্মত্যাগ ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়, আর ওমরা বারবার আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়। হজ্জ ও ওমরা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে, জীবনকে নতুন পথে পরিচালিত করে। আপনার পছন্দের স্ট্যাটাস, ক্যাপশন উক্তি এখান থেকে কপি করে শেয়ার করতে পারবেন।

Table of Contents

ইহরাম ও নিয়ত

প্রশ্ন: হজ্জ বা ওমরাহর ইহরাম বাধার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী? শুধু কাপড় পরলেই কি ইহরাম হবে?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
না, শুধু কাপড় পরলেই ইহরাম হয় না। ইহরামের জন্য দুটি বিষয় জরুরি— নিয়ত করা এবং তালবিয়া (লাব্বাইক…) পাঠ করা।

মিকাত অতিক্রম করার পূর্বে গোসল বা ওযু করে সেলাইবিহীন দুটি চাদর পরিধান করবেন। এরপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে হজ্জ বা ওমরাহর নিয়ত করে উচ্চস্বরে ‘তালবিয়া’ পাঠ করবেন। এই দুটির মাধ্যমেই ইহরামের পাবন্দি শুরু হয়।

ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ

প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় মহরিম ব্যক্তির জন্য কোন কোন কাজ করা নাজায়েজ বা হারামের অন্তর্ভুক্ত?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
ইহরাম অবস্থায় নিম্নোক্ত কাজগুলো থেকে বিরত থাকা ফরজ:

  • ১. সেলাই করা কাপড় বা জুতা ব্যবহার করা (পুরুষদের জন্য)।
  • ২. মাথা বা চেহারার কোনো অংশ ঢাকা।
  • ৩. শরীর বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো।
  • ৪. নখ, চুল বা শরীরের কোনো পশম কাটা বা উপড়ানো।
  • ৫. স্ত্রী-সহবাস বা যৌন আচরণ।
  • ৬. বন্য পশু শিকার করা।

তাওয়াফ ও সাঈ

প্রশ্ন: তাওয়াফ ও সাঈ করার সময় ওযু থাকা কি শর্ত? নারীরা কি অপবিত্র অবস্থায় সাঈ করতে পারবে?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
তাওয়াফ বা কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করার জন্য পবিত্রতা বা ওযু থাকা ওয়াজিব। ওযু ছাড়া তাওয়াফ করলে ‘দম’ (জরিমানা) ওয়াজিব হতে পারে।

তবে সাফা-মারওয়ায় ‘সাঈ’ করার জন্য ওযু থাকা শর্ত নয়, বরং মুস্তাহাব। তাই ঋতুবতী নারীরা তাওয়াফ করতে না পারলেও মাসিকের হালতে সাঈ করতে পারবেন।

মিনা ও আরাফাত

প্রশ্ন: ৮ ও ৯ জিলহজ্জ হাজীদের করণীয় কী?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
মিনায় গমন: ৮ জিলহজ্জ জোহরের আগেই মিনায় পৌঁছা এবং সেখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ও রাত্রিযাপন করা সুন্নত

আরাফাতে অবস্থান: হজ্জের প্রধান রুকন বা ফরজ হলো ৯ জিলহজ্জ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। সূর্য ঢলে পড়ার পর (দুপুর) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্য হলেও সেখানে উপস্থিত থাকা অপরিহার্য। এটি ছুটে গেলে হজ্জ বাতিল হবে।

মুজদালিফায় রাত্রিযাপন

প্রশ্ন: মুজদালিফায় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়ার নিয়ম কী?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
৯ জিলহজ্জ সূর্যাস্তের পর আরাফাতে মাগরিব না পড়ে মুজদালিফায় আসতে হবে। এখানে এশার ওয়াক্তে এক আজান ও দুই ইকামতে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা ওয়াজিব

এখানে সুবহে সাদিক পর্যন্ত রাত্রিযাপন করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এখান থেকেই জামারার জন্য ৭০টি পাথর সংগ্রহ করা উত্তম।

জামারা ও কুরবানি

প্রশ্ন: ১০ জিলহজ্জের আমলগুলোর মধ্যে তারতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা করা কি জরুরি?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
হ্যাঁ, ১০ জিলহজ্জ হাজীদের জন্য তিনটি কাজ ধারাবাহিকভাবে করা ওয়াজিব। তারতীবটি হলো:

  1. প্রথমে বড় জামারায় (শয়তানকে) ৭টি পাথর মারা
  2. এরপর হজ্জের কুরবানি বা দম আদায় করা।
  3. সবশেষে হলক (মাথা মুণ্ডন) বা কসর করে ইহরাম খোলা।

এই ক্রম বা সিরিয়াল ভঙ্গ করলে দম বা কাফফারা ওয়াজিব হবে।

তাওয়াফে জিয়ারত

প্রশ্ন: হজ্জের ফরজ তাওয়াফ বা ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ আদায়ের সর্বশেষ সময় কখন?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
১০ জিলহজ্জ থেকে ১২ জিলহজ্জ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ সম্পন্ন করা ফরজ

যদি কোনো নারী এই সময়ের মধ্যে অসুস্থ (মাসিক) থাকেন, তবে তিনি পবিত্র হওয়ার পর এই তাওয়াফ করবেন। এতে কোনো দম ওয়াজিব হবে না। কিন্তু ওজর ছাড়া বিলম্ব করলে দম দিতে হবে।

বিদায়ী তাওয়াফ

প্রশ্ন: মক্কা শরীফ ত্যাগের পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ কাদের ওপর ওয়াজিব?

শরয়ী সমাধান (মাসয়ালা):
মিকাতের বাইরের এলাকা থেকে আগত (আফাকি) সকল হাজীর জন্য মক্কা ত্যাগের পূর্বে ‘বিদায়ী তাওয়াফ’ করা ওয়াজিব। তবে ঋতুবতী ও প্রসূতি নারীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ মাফ।

বি:দ্র: উল্লেখিত মাসয়ালাসমূহ হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি এবং আকাবিরে দেওবন্দের ফতোয়ার আলোকে সংকলিত। বিশেষ কোনো জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বিজ্ঞ মুফতি সাহেবানদের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

হজ্জ নিয়ে ক্যাপশন বাংলা

​লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। এই ধ্বনিতে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় প্রতিটি মুমিনের হৃদয়।

​হজ্জ শুধু একটি যাত্রা নয়, এটি মহান রবের প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার নাম।

​পৃথিবীর সব রাজত্ব একদিকে, আর আরাফাতের ময়দানের ওই এক টুকরো সাদা কাফনের পোশাক একদিকে।

​হে আল্লাহ, আমার এবং প্রতিটি মুসলিমের জীবনে একবার হলেও হজ্জ নসিব করুন। আমিন।

​হজ্জ হলো নবজন্মের মতো, যেখানে মানুষ গুনাহমুক্ত হয়ে মায়ের গর্ভের শিশুর মতো পবিত্র হয়ে ফিরে আসে।

​আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলার মতো শান্তি পৃথিবীতে আর কোথাও নেই।

​সাদা ইহরাম, খালি পা, আর চোখের জল—হজ্জের সৌন্দর্য এখানেই।

​ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সব এক কাতারে। হজ্জ আমাদের সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব শেখায়।

​কোরবানি শুধু পশুর নয়, হজ্জে আমরা নিজেদের নফস ও অহংকারকে কোরবানি করতে যাই।

​আল্লাহর মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না, যাদের হয় তারা বড্ড ভাগ্যবান।

​ওমরা করার অনুভূতি ক্যাপশন

​জীবনে প্রথমবার কাবার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ।

​ওমরাহ শেষ করলাম, কিন্তু মনটা যেন ওখানেই রেখে আসলাম।

​কাবার গিলাফ ছোঁয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, শুধু অনুভব করা যায়।

​সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানোর সময় মনে পড়ছিল মা হাজেরার সেই ত্যাগের কথা।

​ইহরাম বাঁধার পর যে প্রশান্তি অনুভব করেছি, তা দুনিয়ার কোনো দামী পোশাকে নেই।

​বায়তুল্লাহর ছায়ায় বসে থাকার প্রতিটি মুহূর্ত জীবনের সেরা সঞ্চয়।

​ওমরাহ হলো রুহের খোরাক, যা মৃত আত্মাকে পুনরায় জীবিত করে।

​জমজমের পানি দিয়ে তৃষ্ণা মেটানো আর আল্লাহর ঘরে ইবাদত—এ এক স্বর্গীয় অনুভূতি।

​এই যাত্রায় শরীর ক্লান্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আত্মা পেয়েছে পরম শান্তি।

​আল্লাহ যেন বারবার আমাকে তাঁর ঘরে হাজিরা দেওয়ার তৌফিক দেন।

​মক্কা শরীফ নিয়ে স্ট্যাটাস

​মক্কা—পৃথিবীর একমাত্র শহর, যেখানে হৃদয় বারবার ফিরে যেতে চায়।

​পৃথিবীর মানচিত্রে অনেক সুন্দর শহর আছে, কিন্তু মক্কার মতো প্রশান্তির শহর আর নেই।

​মক্কা শরীফ হলো পৃথিবীর হৃদপিণ্ড, যেখানে মুসলিম উম্মাহর স্পন্দন শোনা যায়।

​এই শহরের ধুলিকণাও আমার কাছে অন্য শহরের প্রাসাদের চেয়ে দামী।

​মক্কার কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ) আমার জীবনের সব সাদা স্বপ্ন পূরণ করে দিয়েছে।

​যেখানেই থাকি না কেন, সেজদা তো ওই মক্কার দিকেই দিতে হয়।

​মক্কার বাতাসের ঘ্রাণে মিশে আছে জান্নাতের সুবাস।

​হে মক্কা! তোমার বুকে সিজদা দেওয়ার আকুতি আমার আজন্ম।

​পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু মক্কা, আর আমার হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুও মক্কা।

​মক্কা এমন এক চুম্বক, যা মুমিনের ঈমানকে নিজের দিকে টানতে থাকে।

​কাবা শরীফ দর্শনের ক্যাপশন

​প্রথমবার যখন কালো গিলাফে মোড়ানো ঘরটি দেখলাম, মনে হলো জীবন সার্থক।

​আমার দৃষ্টি শীতল হলো কাবার পানে চেয়ে, হে রব তোমার শুকরিয়া।

​কালো রঙের যে এত সৌন্দর্য হতে পারে, তা কাবা না দেখলে বুঝতাম না।

​কাবার সামনে দাঁড়ালে মনে হয়, আমি আমার রবের খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।

​চোখ দিয়ে শুধু কাবা দেখছি না, হৃদয় দিয়ে আল্লাহর রহমত অনুভব করছি।

​এই সেই ঘর, যার দিকে তাকিয়ে আমি সারা জীবন নামাজ পড়েছি। আজ সেই ঘর আমার সামনে!

​কাবার দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যেও এক প্রকার ইবাদত ও প্রশান্তি আছে।

​হে আল্লাহ, এই কালো ঘরটির উসিলায় আমার জীবনের সব কালো অধ্যায় মুছে দাও।

​কাবার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও নগণ্য মনে হয়।

​চোখের পলক ফেলতে ইচ্ছে করে না, পাছে যদি এই দৃশ্য হারিয়ে যায়!

​হজ্জ কবুলের দোয়া স্ট্যাটাস

​হে আল্লাহ, আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে ‘হজ্জে মাবরুর’ হিসেবে কবুল করুন।

​আমাদের হজ্জকে কবুল করো, আমাদের গুনাহ মাফ করো এবং আমাদের চেষ্টাগুলোকে সার্থক করো।

​ইয়া রব, যারা হজ্জ করতে এসেছেন, তাদের সবাইকে নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফেরার তৌফিক দাও।

​আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্না। হে আল্লাহ, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।

​হজ্জের সফর শেষ, এখন একটাই দোয়া—আল্লাহ যেন এই পবিত্রতা ধরে রাখার শক্তি দেন।

​হে আল্লাহ, আমার হজ্জ কবুল করো এবং এটাকে আমার নাজাতের উসিলা বানাও।

​আমাদের সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে, এই হজ্জকে তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যম বানাও।

​আল্লাহ যেন আমাদের হজ্জ কবুল করেন এবং প্রতিদান হিসেবে জান্নাত দান করেন।

​হজ্জ পরবর্তী জীবন যেন হজ্জের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়তে পারি, সেই দোয়া করি।

​কবুলিয়াতের সিলমোহর মেরে দাও প্রভু, আমাদের এই ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরের ইবাদতে।

​ওমরা যাত্রা নিয়ে ক্যাপশন

​আল্লাহর ঘরের মেহমান হতে চললাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

​জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ফ্লাইটে আজ উড়াল দিচ্ছি। গন্তব্য: মক্কা-মদিনা।

​ইহরামের কাপড় গায়ে জড়ালাম, দুনিয়ার সব রঙ পেছনে ফেললাম। লাব্বাইক!

​ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন, পবিত্র ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।

​ডাক এসেছে দয়াল প্রভুর, তাই তো চললাম কাবার পানে।

​আমার জীবনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ পূরণ হতে চলেছে। ওমরাহ যাত্রা শুরু।

​শরীর যাচ্ছে মক্কায়, কিন্তু মন অনেক আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে।

​দোয়ার দরখাস্ত রইল, যেন সহিহভাবে ওমরা পালন করতে পারি।

​মদিনার পথে যাত্রী আমি, এর চেয়ে বড় পরিচয় আর কী হতে পারে?

​আল্লাহ আমাদের যাত্রা সহজ ও নিরাপদ করুন। আমিন।

​কাবার সামনে দোয়া ক্যাপশন

​মুলতাজামে বুক ঠেকিয়ে কেঁদেছি, হে আল্লাহ তুমি আমাকে খালি হাতে ফিরিও না।

​কাবার সামনে হাত তুলেছি, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই, শুধু তোমাকে চাই ওগো রব।

​হে কাবার মালিক! আমার জীবনের সব পেরেশানি দূর করে দাও।

​এই পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে পিতা-মাতার জন্য জান্নাত ভিক্ষা চাইলাম।

​কাবার ছায়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া করছি—আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন।

​হে রব, আমার চোখের পানিগুলো সাক্ষী রেখো, আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি।

​হাতীমে বসে দোয়া করার সৌভাগ্য হলো, আল্লাহ যেন এই উসিলায় সব গুনাহ মাফ করেন।

​কাবার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জন্য নয়, উম্মতের জন্য কাঁদতে বেশি ভালো লাগে।

​আল্লাহ, তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই, এই কাবার সামনে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি।

​এখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় যেন নিষ্পাপ হয়ে ফিরতে পারি, এই দোয়াই করি।

​হজ্জের স্মৃতি নিয়ে স্ট্যাটাস

​মক্কার সেই দিনগুলো বড্ড মনে পড়ে, আবার কবে ডাকবে হে মালিক?

​হজ্জের স্মৃতিগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে, আরাফাতের সেই কান্না, মিনার সেই তাঁবু।

​শরীরটা এখানে, কিন্তু মনটা পড়ে আছে মদিনার সেই সবুজ গম্বুজের নিচে।

​সাফা-মারওয়ার সেই দৌড়, জমজমের সেই স্বাদ—স্মৃতিগুলো আমাকে ঘুমাতে দেয় না।

​প্রতি বছর হজ্জের সময় এলে বুকের ভেতরটা হুহু করে ওঠে।

​কাবার সেই কালো গিলাফ ছোঁয়ার স্মৃতি আজও লোম খাড়া করে দেয়।

​বিদায়ী তাওয়াফের সময় যে কান্না করেছিলাম, সেই কান্নার স্বাদ আজও ভুলিনি।

​মিনার সেই রাতগুলো, যেখানে আরাম ছিল না কিন্তু পরম শান্তি ছিল।

​ছবিগুলো দেখি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি, আল্লাহ তুমি আবার নিয়ে যাও।

​হজ্জের স্মৃতি শুধু স্মৃতি নয়, এটা আমার ঈমানের ব্যাটারি চার্জার।

​ওমরা করে ফেরা ক্যাপশন

​ওমরা শেষ করে ফিরলাম, কিন্তু মনটা যেন মক্কায় রেখে এসেছি।

​আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে সহিহ সালামতে ওমরা পালন করে ফেরার তৌফিক দিয়েছেন।

​ফিরে এলাম দুনিয়ার কোলাহলে, কিন্তু সাথে নিয়ে এলাম একরাশ প্রশান্তি।

​শরীর ফিরেছে দেশে, কিন্তু রুহ পড়ে আছে রাসুল (সা.)-এর রওজায়।

​আল্লাহ যেন এই সফরের পবিত্রতা সারা জীবন ধরে রাখার তৌফিক দেন।

​বিদায় মক্কা, বিদায় মদিনা। আবার আসার ওয়াদা করে ফিরলাম।

​ওমরা থেকে ফেরার পর দুনিয়াটাকে এখন খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে।

​এক নতুন মানুষ হয়ে ফিরলাম, দোয়া করবেন যেন এই পরিবর্তন স্থায়ী হয়।

​লাগেজ ভর্তি করে খেজুর ও জমজম এনেছি, আর হৃদয়ে ভর্তি করে এনেছি ঈমানের নূর।

​সফর শেষ, কিন্তু আল্লাহর প্রেমের সফর মাত্র শুরু হলো।

​পবিত্র মক্কা মদিনা উক্তি

​মক্কা হলো আল্লাহর মহত্ত্বের প্রতীক, আর মদিনা হলো রাসুল (সা.) এর ভালোবাসার প্রতীক।

​মক্কায় গেলে আল্লাহর ভয় জাগে, আর মদিনায় গেলে রাসুল (সা.) এর প্রেমে মন গলে।

​পৃথিবীর জান্নাত যদি দেখতে চাও, তবে মদিনার রিয়াজুল জান্নাতে যাও।

​মক্কা আমাদের শেখায় তাওহীদ, আর মদিনা শেখায় আদব ও ভালোবাসা।

​মক্কার পাহাড়গুলোও যেন আল্লাহর জিকির করে, মদিনার বাতাসও যেন দুরুদ পড়ে।

​এই দুই শহরের ধুলোবালিও আমার কাছে স্বর্ণের চেয়ে দামী।

​মক্কা ও মদিনা—এই দুই নামেই মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির ঢেউ খেলে যায়।

​মদিনার সবুজ গম্বুজ দেখলে চোখের তৃষ্ণা মেটে না, শুধু বাড়তেই থাকে।

​মক্কা আমাকে নত হতে শিখিয়েছে, মদিনা আমাকে কাঁদতে শিখিয়েছে।

​হে আল্লাহ, আমার মৃত্যু যেন এই দুই পবিত্র শহরের কোনো একটিতে হয়।

​হজ্জ ও ওমরা নিয়ে ইসলামিক ক্যাপশন

​”যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্জ করল এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকল, সে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এল।” — (বুখারী ও মুসলিম)

​এক ওমরা থেকে আরেক ওমরা—এর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা।

​হজ্জে মাবরুর (কবুল হজ্জ)-এর প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

​নারীদের জন্য জিহাদ হলো হজ্জ ও ওমরা পালন করা।

​আল্লাহ তায়ালা বলেন: “মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার শীর্ণ উটের পিঠে চড়ে…” — (সূরা হজ্জ: ২৭)

​ওমরাহ হলো ছোট হজ্জ, যা মুমিনের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।

​হজ্জ ও ওমরাহ পালনকারীরা হলেন আল্লাহর প্রতিনিধি বা মেহমান।

​হজ্জ ফরজ হওয়ার পর দেরি করা উচিত নয়, কারণ মৃত্যু যেকোনো সময় আসতে পারে।

​সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ।

​জমজমের পানি পান করার সময় যে নিয়ত করা হয়, আল্লাহ তা কবুল করেন।

About captionidea

Thanks For Visit Our Website.

Check Also

প্রিয় মানুষ নিয়ে স্ট্যাটাস, ক্যাপশন উক্তি ৩৯০ টি সেরা পোস্ট

প্রিয় মানুষ মানেই জীবনের সবচেয়ে শান্ত আশ্রয়, যার কাছে গেলে সব ক্লান্তি হারিয়ে যায়। তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *